খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ: একজন সফল চিকিৎসক ও সামরিক কর্মকর্তা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ, একাধারে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, চিকিৎসক, সেনা কর্মকর্তা ও ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি। কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি তাঁর কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।
দেশের কল্যাণে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মরণোত্তর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে তিনি ‘স্বাধীনতা পুরস্কার- ২০২১’এর জন্য মনোনীত হয়েছেন ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) ড. শাহিদা আকতার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নয় জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন: মরহুম এ কে এম বজলুর রহমান (স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ), শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ), মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ (স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ), মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু (স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ), ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), মহাদেব সাহা (সাহিত্য), আতাউর রহমান (সংস্কৃতি), গাজী মাজহারুল আনোয়ার (সংস্কৃতি), অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন (সমাজসেবা/জনসেবা)।
গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাওয়া একমাত্র প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবন
বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ারের অধিকারী এই অফিসার ১৯৫৮ সনে আর্মি মেডিকেল কোরে কমিশন প্রাপ্ত হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি কুমিল্লা সিএমএইচ এর অধিনায়ক এবং ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এএমসি অফিসার হিসেবে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতার ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত। ১৯৭২ সালের অক্টোবরে তিনি প্রথম ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (ডিএমএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৭৩ এ আরব-ইসরাইল যুদ্ধে তিনি সিরিয়ান ফ্রন্টে মেডিকেল টিমের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
তিনি তার সামরিক জীবনে দেশে ও বিদেশে মোট চারটি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন:
১. রান অব কচ্ছ এর যুদ্ধ, ১৯৬৪ সাল (পাকিস্তান)।
২. পাক-ভারত যুদ্ধ, ১৯৬৫ সাল।
৩. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৭১ সাল।
৪. আরব-ইসরাইল যুদ্ধ, ১৯৭৩ সাল।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান
খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসেবে জানুয়ারি ১৯৬৮ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তীতে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে জেল থেকে মুক্তি পান।
১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ইস্টার্ন সেক্টরের অ্যাসিসিটেন্টে ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নভেম্বর’৭১ এ তিনি বেলুনিয়ার যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহন করেন।
অন্যান্য কর্মকাণ্ড
একজন সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি ব্রিগেডিয়ার খুরশিদ আহমেদ একজন ভাল ফুটবল খেলোয়াড়ও ছিলেন। তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে ১৯৫৬-৫৭ সালে সেন্টার ফরওয়ার্ড পজিশনে খেলেছেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ ২০১৩ সালের ২২ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন। তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা সেনানিবাস কবরস্থানে দাফন করা হয়।