ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুক্তি দাবি এফডিএসআরের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এএসপি আনিসুল করিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্টার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও মুক্তি দাবি করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেস্পন্সিবিলিটিজ (এফডিএসআর)। একইসঙ্গে এএসপি আনিসুল করিমের মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) এফডিএসআরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন ও মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি মাইন্ড এইড নামের অনুমোদনবিহীন একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিমের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারিত ডিসি তেজগাঁও জনাব হারুন অর রশীদের সত্য উপেক্ষিত বক্তব্যে দেশ জুড়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পুলিশ কর্মকর্তার সত্যবিবর্জিত বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং নিন্দা জ্ঞাপন করছি। দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে এধরনের পক্ষপাতমূলক বক্তব্য পুলিশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুন্ন করে।
যেহেতু নিহত আনিসুল করিম পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন, সেহেতু আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে যে, স্বার্থের দ্বন্দ্বজনিত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এমতাবস্থায়, ন্যায় বিচারের স্বার্থে এএসপি আনিসুল করিমের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি, এই ঘটনায় অন্যায়ভাবে গ্রেফতারকৃত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘হাসপাতালে ঘটনার দিন কেবল একজন কর্তব্যরত ছিলেন না। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন ভোরে আনিসুল করিমকে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য তার স্বজনরা মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে আসার সময়কালই প্রমাণ করে রোগীর অবস্থা কতটা মারাত্মক ছিল, নইলে অত ভোরে তাকে হাসপাতালে নেবার প্রয়োজন হতো না। সেখানে রোগীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করে ডা. মামুন তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করতে বললে সাথে অ্যাটেন্ডেন্ট হিসেবে আসা রোগীর বোন ও বোনজামাই ওয়ার্ডে থাকবেন না জানিয়ে কেবিনের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে কেবিন খালি না থাকায় রোগীর জন্য কোন কেবিনের ব্যবস্থা করা যায়নি। উল্লেখ্য যে, মৃত এএসপি আনিসের বোন ও বোনের স্বামী, দুজনেই ডাক্তার। কেবিন না পেয়ে রোগীর বোন রোগীকে বেসরকারী কোন ক্লিনিকে নিতে চান এবং সে ব্যাপারে ডা. মামুনের কাছে জানতে চান। ডা. মামুন তখন সুনির্দিষ্ট কোন ক্লিনিকের নাম না বলে আশেপাশের একাধিক ক্লিনিকের নাম বলেন। কিছুক্ষণ পর আবার রোগীপক্ষ রোগীকে পাশের মাইন্ড এইড নামক ক্লিনিকে ভর্তি করাবে জানিয়ে ডা. মামুনকে ক্লিনিকে বলে দিতে অনুরোধ করেন। যেহেতু রোগীর আত্মীয় নিজে একজন ডাক্তার হিসেবে অনুরোধ করেছেন, তাই ডা. মামুন ফোন করে রোগীকে মাইন্ড এইডে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন। পরবর্তীতে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে মাইন্ড এইড প্রতিষ্ঠানটির একটি কক্ষে কয়েকজন মিলে এএসপি আনিসুল করিমকে মেঝেতে চেপে ধরা থেকে আমরা পরবর্তী ঘটনাসমূহ দেখতে পাই।’
হাসপাতালের অনুমোদন প্রসঙ্গে বলা হয়ে, ‘আমরা জানতে চাই ঢাকা শহরে প্রশাসনের নাকের ডগায় মাইন্ড এইডের মত ভূঁইফোড় প্রতিষ্ঠান বিনা অনুমোদনে কিভাবে, কিসের বিনিময়ে, কাদের অনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় অবৈধভাবে মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগীদের চিকিৎসা করে যাচ্ছে? মানসিক কোন সমস্যায় আনিসুল করিমকে অত ভোরে হাসপাতালে নিতে হয়েছিল? কী কারণে কোন পারিবারিক ও চাকুরিগত জটিলতায় তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন? সামান্য রেফারালের জন্য যদি ডা. মামুনকে হত্যার দায়ে গ্রেফতার করা হয় তবে যাদের ব্যবহারে তিনি এভাবে অসুস্থ হলেন, যারা মাইন্ড এইডের মতো অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে চালু রাখতে দিয়েছেন তারা কেন হত্যার দায়ে আগে গ্রেফতার হবেন না? ন্যায় বিচারের স্বার্থে আনিসুল করিমের অসুস্থতার বিষয়ে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। কেন মৃত্যুর পরে আনিসুল করিমের ডাক্তার বোন ও বোনজামাই হঠাৎ করেই নীরব হয়ে গেলেন? মৃতের স্ত্রী ও সন্তান কোথায়?’
পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বলা হয়, ‘যে কোন মৃত্যুই বেদনার। অনাকাঙ্খিত মৃত্যু আরো কষ্টের। আমরা পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং সঠিক বিচার বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের বিচার করা হোক, সেই দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মত, এই ঘটনায় নিরাপরাধ ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তা ছাড়া, সরকারী চাকুরি আইন ২০১৮ এর ৪১ (১) ধারার ব্যত্যয় ঘটিয়ে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ডা. মামুনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ প্রচলিত আইন ভঙ্গ করেছে। আমরা আইনের প্রতি পুলিশের এহেন বেআইনী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ করছি। আমরা চাই, পুলিশের এই বেআইনী আচরণও আইনের আওতায় আসুক। এমনকি মেডিকেল নেগলিজেন্স সংক্রান্ত আইনেও কর্মরত ডাক্তারকে রেফারাল এর জন্য দায়ী করা যায় না। রেফার করার পরে রোগীর দায়িত্ব রেফার যেখানে করা হয়েছে তার বা সেই প্রতিষ্ঠানের। তারা যদি ভুয়া হয়ে থাকেন সেটা দেখার দায়িত্ব রেফার যিনি করেছেন তার নয় বরং সেটা আইনশৃংখলা রক্ষাকারীদের।’
প্রসঙ্গত, গত ৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালটির কর্মচারীদের মারধরে মারা যান সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন। তিনি ৩১তম বিসিএসে পুলিশ প্রশাসনে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। পরদিন ১০ নভেম্বর সকালে নিহত এএসপি আনিসুল করিমের বাবা ফয়েজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
ওই দিন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, মাইন্ড এইড হাসপাতালে এএসপি আনিসুল করিম নিহতের ঘটনাটি একটি হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এই হাসপাতালের স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনও অনুমোদন নেই, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের কোনও অনুমোদন নেই, চিকিৎসক নেই।
-
০৬ নভেম্বর, ২০২১
-
১৯ নভেম্বর, ২০২০
-
১৯ নভেম্বর, ২০২০
-
১৯ নভেম্বর, ২০২০
-
১৯ নভেম্বর, ২০২০
-
১৮ নভেম্বর, ২০২০
ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেফতার
টানা দুই দিন কর্মবিরতি শেষে আগামীকাল নতুন ঘোষণা
-
১৭ নভেম্বর, ২০২০
-
১৭ নভেম্বর, ২০২০
-
১০ নভেম্বর, ২০২০
-
১০ নভেম্বর, ২০২০