হার মেনেছে রিজেন্ট-জেকেজি কাণ্ড
মৃত চিকিৎসকের সইয়ে টেস্ট রিপোর্ট!
মেডিভয়েস রিপোর্ট: অনিয়মের ভয়াবহতায় হার মানবে রিজেন্ট কিংবা জেকেজি। ছয় মাস আগে করোনায় প্রাণ হারানো চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামানের সই দিয়ে রোগীদের দেওয়া হতো কল্পিত রিপোর্ট। রাজধানীর শ্যামলীতে হাইপোথাইরয়েড সেন্টার নামে একটি ল্যাবরেটরিতে র্যাবের অভিযানে ধরা পরে এ রকম চাঞ্চল্যকর চিত্র।
ভয়ঙ্কর এ অনিয়মের খবর পেয়ে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শ্যামলী স্কয়ারের বিপরীতে ২/১ নম্বর বাড়ির ওই সেন্টারে অভিযানে নামে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে সন্ধান মেলে এ রকম ভুয়া ল্যাবের।
পরে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। সেই সঙ্গে দুই কর্মচারী সোহেল রানা ও রাসেল প্রতি জনকে দুই বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুল বাকের পালিয়ে যান।
সারোয়ার আলম বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান হার মানিয়েছে রিজেন্ট কিংবা জেকেজিকেও। ১০ বছর ধরে ল্যাব পরিচালনা করছে হাইপোথাইরয়েড সেন্টার। থাইরয়েডের নানা রিপোর্টসহ হেপাটাইটিস, ব্লাড কালচারসহ চলতো নানা পরীক্ষা। অথচ সেই ল্যাবের বেহাল দশা।’
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি প্যাথলজির রিপোর্ট দেওয়া হতো করোনায় মৃত অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরে। অক্টোবরেও তার নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। অথচ গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা বলছেন, দুই একটা পরীক্ষা করা হলেও বাকিগুলোর রিপোর্ট দেওয়া হতো ইচ্ছামতো।
এছাড়া আরও অভিযানে মিলেছে চিকিৎসকের স্বাক্ষর করা অসংখ্য ভুয়া রিপোর্ট। হাইপোথাইরয়েড সেন্টার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কুরিয়ারে স্যাম্পল সংগ্রহ করে মেইলে রিপোর্ট দিতো।