২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০৭:০১ পিএম
বিএসএমএমইউর নতুন নিয়ম

কয়েকশ’ চিকিৎসকের রেসিডেন্সি ভর্তি পরীক্ষা অনিশ্চিত

কয়েকশ’ চিকিৎসকের রেসিডেন্সি ভর্তি পরীক্ষা অনিশ্চিত

মো. মনির উদ্দিন: ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর এক বছর পূর্ণ হওয়ার বিষয়ে নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় এ বছর নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) রেসিডেন্সি ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না কয়েকশ’ চিকিৎসক। তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় বসতে প্রায় বছরব্যাপী প্রস্তুতি নেওয়ার পর হঠাৎ এ ঘোষণা এলো। বছরের শুরুতে বিষয়টি জানানো হলে অন্য কোনো পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারতেন তারা। শেষ পর্যায়ে বিএসএমএমইউর এমন ঘোষণায় হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি আগের নিয়মে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন তরুণ চিকিৎসকরা।

সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য বছর ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর কোনো চিকিৎসকের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এক বছর পূর্ণ হলেই নভেম্বরে রেসিডেন্সি ভর্তি পরীক্ষায় অংশ পারতেন তিনি। কিন্তু এ বছর পরীক্ষা আয়োজনের মাস খানেক আগে নতুন নিয়ম চালু করে নোটিস জারি করে বিএসএমএমইউ। এ নিয়ম অনুযায়ী, রেসিডেন্সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণে প্রার্থীর উপযোগিতা হিসেবে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর ২৩ নভেম্বরের মধ্যে এক বছর পূর্ণ হওয়ারি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পরে অবশ্য তা বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর সময়সীমা পুননির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ। 

তবে পুননির্ধারিত এ সময়সীমায় অনেকে রেসিডেন্সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পেলে কয়েকশ’ চিকিৎসক সে সুযোগ থেকে বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পূর্বের নিয়মে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজের ২২তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘রেসিডেন্সি কোর্সে ভর্তি হতে গত বছর পর্যন্ত নিয়ম ছিল, ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কারও এক বছর সম্পন্ন হলেই তিনি নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু এবার এ সময় প্রায় তিন মাস এগিয়ে আনা হয়েছে। অর্থাৎ ২৩ নভেম্বরের মধ্যে এক বছর পূর্ণ হতে হবে। অনেকের গত ডিসেম্বরের ৫-৭ তারিখে ইন্টার্নশিপ শেষ হয়েছে। এ কারণে তারা পরীক্ষায় বসতে পারছেন না। স্যারদের কাছে আমাদের চাওয়া হলো, আগের নিয়ম বহাল থাকলে আমরা অনায়াসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবো।’

এফসিপিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কারও ডিএমডিসির স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকলে তিনি এফসিপিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। এখানে সময়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নাই। আমাদের সঙ্গে গত নভেম্বরে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা অনেকেই গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এফসিপিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।’

কিন্তু রেসিডেন্সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ইন্টার্নশিপের পর এক বছর পূর্ণ হওয়ার একটি বিষয় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি অনেক দিন আগে থেকেই চলে আসছে। বিসিপিএস যেহেতু পারছে, তাহলে বিএসএমএমইউও চাইলে এটি করতে পারে। কিন্তু তা না করে উল্টো আগে যে সুযোগ ছিল সেটিও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তো এমন না যে এখানে কেউ পরীক্ষা ছাড়া ঢুকছেন। যিনি এ কোর্সে অধ্যয়ন করবেন তাকে অবশ্যই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আসতে হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই মেডিকেল কলেজের অভিন্ন ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘কেন যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বোঝে আসছে না। এবার যদি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া না যায় তাহলে আরও এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। এবারের পরীক্ষায় চান্স না পেলেও একটি অভিজ্ঞতা তো অর্জন হতে পারতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘রেসিডেন্সি কোর্সের মতো এফসিপিএসও একটি সম্মানজনক কোর্স। দুটোই সমান্তরালে চলে। বিসিপিএস যেহেতু কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা রাখেনি, আমার মনে হয় বিএসএমএমইউ শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে কিংবা সময় কমানোর নতুন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ১২-১৩ সেশনের এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা অনেকেই আছি, যারা ২০১২ সালের সাপ্লিমেন্টারি। সময়টা যদি ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হতো, তাহলে আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেতাম। আমরা ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর গত জানুয়ারি থেকে কোনো চাকরিতে যুক্ত হইনি। রেসিডেন্সি কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু নতুন নিয়মের জন্য আমরা বসতে পারবো না। চান্স পাওয়া তো পরের ব্যাপার। আগে তো পরীক্ষায় বসার সুযোগটা পেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ডিসেম্বরের পাঁচ তারিখ আমার ইন্টার্নশিপ শেষ হয়েছে। আমরা যদি জানতাম আগামী নভেম্বরের ২৩ তারিখ সময়টা বেধে দেওয়া হবে। বিষয়টি আমাদেরকে যদি এক বছর আগেও জানানো হতো, তাহলে শুধু এফসিপিএসের জন্য প্রস্তুতি নিতাম, রেসিডেন্সির জন্য পড়াশোনা করতাম না। দেখুন, গত জুলাইয়ে এফসিপিএস পরীক্ষা হয়নি, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়াও সম্ভব হবে না। আমাদের পড়াশোনাটাই ছিল রেসিডেন্সি কেন্দ্রীক। আমার পরিচিত অন্তত ১০-১২ শিক্ষার্থী এ রকম প্রস্তুতি নিয়েছিল, নতুন নিয়মের ঘোষণায় যারা চরম হতাশ। এতদিন ধরে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা ছিল, হঠাৎ করে ২৩ নভেম্বর করা হয়েছে।’

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বিএসএমএমইউ সব সময় শিক্ষার্থী বান্ধব। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিক্ষা অধ্যাপক ডা. সাহানা রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত। এটা কোনো ব্যক্তির সিদ্ধান্ত না। একাডেমিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এ কাউন্সিল সর্বোচ্চ কাঠামো। সুতরাং এ সিদ্ধান্তের ওপর কিছু বলবো না।’

এমন সিদ্ধান্ত আগামী বছরগুলোতেও বলবৎ থাকবে জানিয়ে বিএসএমএমইউ উপ-উপাচার্য বলেন, প্রয়োজনে একাডেমিক কাউন্সিল যে কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও করতে পারে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : রেসিডেন্সি কোর্স
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত