এনআইডি জালিয়াতি
ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি ইসির
মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট সরবরাহের অভিযোগ গ্রেপ্তার জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) গ্রহণ করায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সাবরিনার দ্বিতীয় এনআইডি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায়, কার সুপারিশে তিনি দ্বিতীয়বার ভোটার হয়েছেন। এছাড়া আমাদের কেউ কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সহায়তা করেছেন কি-না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
মামলার প্রস্তুতি বিষয়ে এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। এর পরও আমরা একটা চিঠি দিচ্ছি মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করার জন্য।’
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় দ্বিতীয়বার ভোটার হন ডা. সাবরিনা। একটিতে ভোটার হন সাবরিনা শারমিন হোসেন নাম দিয়ে। জন্মতারিখ ১৯৭৮ সালের ২ ডিসেম্বর। অন্যটিতে ১৯৮৩ সালের ২ ডিসেম্বর। দুটি আইডিতে বয়সের ফারাক পাঁচ বছর।
সূত্র জানিয়েছে, একটিতে স্বামীর নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন আর. এইচ. হক। দ্বিতীয়টিতে স্বামীর নাম লেখা হয়েছে আরিফুল চৌধুরী। একটিতে বাবার নাম সৈয়দ মুশাররফ হোসেন ও মায়ের নাম কিশোয়ার জেসমীন অপরটিতে মা-বাবার নাম পরিবর্তন করে সৈয়দ মুশাররফ হসেন ও জেসমিন হুসেন দিয়েছেন।
দুই এনআইডিতে দুই ঠিকানাও ব্যবহার করেছেন তিনি। একটিতে মোহাম্মদপুরের পিসিকালচার হাউজিং সোসাইটির ঠিকানা অন্যটিতে বাড্ডা এলাকার প্রগতি সরণির আনোয়ার ল্যান্ডমার্কের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।
ভুয়া করোনার রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে গত ৫ আগস্ট জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিএমপি)। ২০ আগস্ট সাবরিনা ও আরিফুল হক চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
করোনার নমুনা সংগ্রহ ও ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে গত ২৩ জুন জেকেজিহেলথ কেয়ারের কর্মচারী হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজিনা পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। পরে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ জুন প্রতিষ্ঠানটির সিইও আরিফসহ ছয়জনকে গুলশান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তা করে পুলিশ। ওই দিনই জেকেজি হেলথ কেয়ারের নমুনা সংগ্রহের অনুমোদন বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তার।
একই দিন হুমায়ুন কবির ও তানজিনা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে হুমায়ুন কবির জেকেজি হেলথকেয়ারে চাকরি করার সময় কীভাবে করোনার নমুনা সংগ্রহ এবং ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করেছেন, সে ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, করোনার নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করে ড্রেনে ফেলে দিতেন।