২২ জুলাই, ২০২০ ০৯:৫৭ এএম

সাহাবুদ্দিন এমডির করোনা আক্রান্তের ভান, পাঁচদিনের রিমান্ড

সাহাবুদ্দিন এমডির করোনা আক্রান্তের ভান, পাঁচদিনের রিমান্ড

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় ভয়বিহ জালিয়াতির অভিযোগে আটক সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফয়সাল আল ইসলাম করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে ভান করেছিলেন। তবে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি তিনি। পরে তার নমুনা পরীক্ষায় তার ভানের বিষয়টি ফুটে উঠে।

গতকাল মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ফয়সাল আল ইসলাম করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে।

এদিকে জালিয়াতির ঘটনায় র‌্যাবের করা মামলায় গ্রেপ্তার সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমডি ফয়সাল এবং তার দুই সহযোগীর পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তারা হলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবুল হাসনাত ও ইনভেন্টরি অফিসার শাহরিজ কবির।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তারের সময় ফয়সাল করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে নমুনা পরীক্ষায় জানা গেছে, তিনি করোনায় আক্রান্ত নন।

র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, গত রবিবার সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযানের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির এমডি ফয়সাল আল ইসলামকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি নিজেকে করোনা রোগী ঘোষণা দিয়ে বনানীর একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে যান। পরে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে গত রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালটিতে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে অসহযোগিতা করায় বিকেল ৫টার দিকে ডা. আবুল হাসনাতকে হেফাজতে নেয় র‌্যাব। হাসপাতালের ইনভেন্টরি অফিসার শাহজির কবির সাদিকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে অন্যতম ৫০০ শয্যার সাহাবদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সম্প্রতি বেশকিছু অনিয়মের অভিযোগ ওঠে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে অভিযান চালায় র‌্যাব। র‌্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, করোনার র‌্যাপিড কিট টেস্ট, অ্যান্টিবডি নিয়ে বেশকিছু অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হাসপাতালটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর গুলশান থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে এই মামলাটি করে। মামলায় সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আল ইসলাম (৩৪), সহকারী পরিচালক ডা. মো. আবুল হাসনাত (৫২) এবং ইনভেন্টরি অফিসার শাহরিজ কবির সাদির (৩৩) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, নেগেটিভ রোগীকে করোনা পজিটিভ রোগী বলে চিকিৎসা দেয়া, পরীক্ষা না করে ভুয়া প্রতিবেদন দেয়া এবং অনুমোদন না নিয়েই র‌্যাপিড কিট দিয়ে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে আসছিল সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবুল হাসনাত নন-কোভিড ও কোভিড রোগীদের এক পরীক্ষা চারবার দেখিয়ে বিল করেছেন। একাধিকবার করোনা পরীক্ষার সনদ রোগীর ফাইলে সংযোজিত পাওয়া যায়নি।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করে আসছিল রোগীদের কাছে। এ ঘটনায় র‌্যাব সদরদফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম প্রতিষ্ঠাটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। হাসপাতালের পাঁচটি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। একটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল টিউব পান। এগুলোর একটি ২০০৯ সালে, দুটি ২০১১ সালে এবং একটি ২০২০ সালের এপ্রিলে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়।

এসব টিউব সাধারণত অপারেশনে অ্যানেসথেসিয়া দেয়ার সময় রোগীর শ্বাসনালিতে ঢোকানো হয়। এছাড়া হাসপাতালের লাইসেন্স গত বছর শেষ হয়ে যায়। এসবের সঙ্গে সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ফয়সাল, সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবুল হাসনাত ও ইনভেন্টরি অফিসার শাহজির কবির সাদি জড়িত।

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিচালক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক করোনা বেড ফাঁকা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি