১৫ জুলাই, ২০২০ ০৬:৩৭ পিএম

ভাতার আওতায় আসছেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

ভাতার আওতায় আসছেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

মো. মনির উদ্দিন: ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকদের জন্য ভাতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা পেলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে মন্ত্রণালয়। 

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া স্যারকে বলেছি, এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি আমাদের কাছে পাঠান, আমরা ব্যবস্থা করে দেবো। প্রয়োজনে প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ দিয়ে দেবো। ইন্টার্নশিপের চিকিৎসকরা যদি টাকা পান, তাহলে ডিপ্লোমার চিকিৎসকরা কেন পাবেন না। তাদের কিছু দিলে তো অসুবিধা নাই।’

জানতে চাইলে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এরই মধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজ পাঠানো হলেই তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। কিছু তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই তো চিঠি পাঠাতে হবে—সেগুলোর প্রস্তুতি চলছে। কত জন ছাত্র আছে, তাদের জন্য বছরে কত টাকা লাগতে পারে…, কেবল একটা চিঠি দিলেই তো হবে না। কারণ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই।’

কবে নাগাদ এ ভাতা চালু হতে পারে জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘পরশু দিন এ নিয়ে কথা হয়েছে। এর পরই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত হলেই জানতে পারবেন।’

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ বি এম মাকসুদুল আলম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ডিপ্লোমা কোর্স যারা করছেন, তারা তো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই করছেন। সুতরাং তাদের জন্যও এফসিপিএস ও রেসিডেন্ট কোর্সের চিকিৎসকদের মতো ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাদি প্রযোজ্য হতে পারে। এতে তারা লেখাপড়ায় অধিক মনোযোগী হবেন, কাজে আরও উৎসাহী হবেন। রেসিডেন্সি, ডিপ্লোমা-এমফিল সবগুলো কোর্সই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হচ্ছে। তাই প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক ও আর্থিক সকল সুবিধা সমপর্যায়ের হওয়া বাঞ্চনীয়।’

এ প্রসঙ্গে মিটফোর্ড হাসপাতালে জুলাই ’২০ এ ডি-অর্থোতে চান্সপ্রাপ্ত ডা. নাবিল বিন আলম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘করোনায় ঝুঁকি ভাতা বা প্রণোদনার আওতাভুক্ত না হয়েও এ মহামারীতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ডিপ্লোর চিকিৎসকরা। বলার অপেক্ষা রাখে না, বেতন না পেলেও দেশের মানুষের সেবা করতে বদ্ধপরিকর নন-রেসিডেন্সি কোর্সে চান্সপ্রাপ্ত মেধাবী এসব চিকিৎসক।’

তিনি আরও বলেন, ‘দিনরাত পরিশ্রম করে সেবা দিয়ে যাওয়া এ সকল বেসরকারি নন-রেসিডেন্সি তথা ডিপ্লোমা/এমফিল/এমপিএইচ কোর্সের চিকিৎসকদের মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হলে তাদের এ মানবেতর জীবন-যাপন থেকে উত্তরণের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে আরো উদ্যোমী করে তুলবে।’ 

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ অক্টোবর এফসিপিএস ট্রেইনিদের ভাতা প্রদানের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস্ এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস)। 

বিসিপিএসের অনারারী সচিব অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এফসিপিএস ১ম পর্ব পাস করা অবৈতনিক প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে যারা বিসিপিএস কর্তৃক স্বীকৃত সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণরত, তাদেরকে শর্ত সাপেক্ষে প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা করে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হবে। 

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বেসরকারি আবাসিক চিকিৎসকদের (রেসিডেন্ট) ভাতা দ্বিগুণ করে ২০ হাজার টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। 

জানা যায়, বিএসএমএমইউর ৫৮২ জন ও অধিভুক্ত ১৯ মেডিকেল কলেজ ও ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত ৮৭৯ জনসহ মোট এক হাজার ৪৬১ জন চিকিৎসককে বর্ধিত হারে এ ভাতা দেওয়া হবে। পাঁচ বছরের রেসিডেন্সি কোর্সে অধ্যয়নরত এসব সরকারি চিকিৎসক প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন পেতেন।

এ প্রেক্ষাপটে ভাতার জন্য যৌক্তিক উপায়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন ডিপ্লোমা/এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই ২০২০ সেশনে চান্স পাওয়া বেসরকারি ক্যান্ডিডেটদের পক্ষে ৭ সদস্যের এক বিশেষ প্রতিনিধি দল বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মাসিক ভাতা সংক্রান্ত দাবি লিখিত আকারে পেশ করেন। উপাচার্য তাদের দাবির যৌক্তিকতা আমলে নেন এবং বিষয়টি নিয়ে সকলের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন।

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : ডিপ্লোমা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি