১৩ জুলাই, ২০২০ ১২:৪৬ পিএম

ডা. সাবরিনাকে তিন দিনের রিমান্ড

ডা. সাবরিনাকে তিন দিনের রিমান্ড

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাস টেস্ট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সাবরিনাকে আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ চার দিনের রিমাণ্ড চাইলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

ঢাকার মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান এই আদেশ দেন।

জানা গেছে, সকালে সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে তাকে ৪ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। অন্যদিকে পুলিশের রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে সাবরিনার পক্ষে জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সুমনসহ কয়েকজন আইনজীবী। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে এই চিকিৎসককে ৩ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

তেজগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত কমিশনার মাহমুদ খান গণমাধ্যমকে জানান, জেকেজি'র প্রধান নির্বাহী ও তার (সাবরিনা আরিফের) স্বামীকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে, ঐ একই মামলায় তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ তলব করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এর আগে গতকাল (রোববার) করোনাভাইরাস টেস্ট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইন চাকরিতে থেকেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেকেজির চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রদান ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে আজ ১২ জুলাই পুলিশের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সরকারের অনুমতি ছাড়াই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত থাকা এবং অর্থ আত্মসাৎ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইনকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালার বিধি ১২ (১) অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্ত হবেন।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার অনুমোদন থাকলেও পরীক্ষা না করে ভুয়া ফলাফল দেয়ার অভিযোগে ২৩শে জুন জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ সম্পর্কে সাবরিনা চৌধুরীর কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও জেকেজি'র জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগকে 'অপপ্রচার' বলে উল্লেখ করে কয়েকদিন আগে সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞপ্তি দেন তিনি।

ওদিকে, করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির ঘটনায় জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ ওঠার পর শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি সংবাদি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

সেখানে উল্লেখ করা হয় যে জেকেজি'র স্বত্বাধিকারী আরিফুল হক চৌধুরীর আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় জেকেজি গ্রুপকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি