১১ জুন, ২০২০ ০৫:৫৪ পিএম

করোনায় জরুরি চাহিদা মেটাতে থোক বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা

করোনায় জরুরি চাহিদা মেটাতে থোক বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যে কোনো জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রস্তাবিত বাজেটে এ ঘোষণা দেন। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় বর্তমানে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ মহামারী মোকাবেলায় যা করণীয় তার সবকিছুই সরকার করবে। আগামী অর্থবছরে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় যে কোন জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পৃথিবী কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছে, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জনস্বাস্থ্য ও জনজীবন নানা সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। আমি আপনার মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই যে, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার পূর্ব থেকেই কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এই রোগ প্রতিরোধ, সংক্রমণ হ্রাস ও চিকিৎসায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি আমরা। এখন পর্যন্ত বিশ্বে এ রোগের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী এ রোগের একমাত্র প্রতিষেধক হলো পরস্পরের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। কোভিড-১৯-কে সংক্রামক। রোগের অন্তর্গত করে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নিমূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা মার্চের মাঝামাঝি সময়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা এবং সব ধরনের গণজমায়েত ও গণসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছি, যা সংক্রমণ হতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে রক্ষার একমাত্র পন্থা। মার্চের শেষ সপ্তাহে আমরা দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছি ও তা ৩০ মে পর্যন্ত কার্যকর রাখা হয়।’

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে জনজীবনকে সুরক্ষার লক্ষ্যে ন্যাশনাল প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্ল্যান প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন আরম্ভ করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিশেষায়িত আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে ১৪টিসহ প্রতিটি জেলা শহরে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল স্থাপন ও চালু করা হয়েছে। করোনা রোগ নির্ণয়ের জন্য এ পর্যন্ত ৫৫টি ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহকে আধুনিকীকরণ ও উন্নততর সেবা প্রদান প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে। এজন্য আমরা জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য খাতে ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছি। কোভিড-১৯  মোকাবেলায় সেবা প্রদানকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান, প্রণোদনা এবং ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি আমরা। করোনা মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ দায়িত্ব পালনকালে ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুজনিত কারণে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মানী বাবদ মোট ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ‘কোভিড-১৯’ পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ডাক্তার এবং ৬ হাজার নার্স নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ৩৮৬ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, ২ হাজার ৬৫৪ জন ল্যাব এটেন্ডেন্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব খাতে ১২০০ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, ১৬৫০ মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান এবং ১৫০ কার্ডিওগ্রাফারসহ সর্বমোট ৩০০০ নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সেবা প্রদান ছাড়াও মোবাবাইল ফোনে কোভিড-১৯ এর স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ যাচাইয়ের জন্য একটি স্ক্রিনিং অ্যাপ এবং এ ভাইরাসের কমিউনিটি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন জাতীয় কোভিড-১৯ ডিজিটাল সারভেইল্যান্স সিস্টেম প্রস্তুত করা হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ২৯টি গাইডলাইন ও ১১টি জনসচেতনতামূলক উপকরণ প্রস্তুত করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ২টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে COVID-19 Emergency Response and Pandemic Preparedness শীর্ষক প্রকল্প এবং অপরটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় ১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যায়ে COVID-19 Response Emergency Assistance শীর্ষক প্রকল্প। এ দুটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ফলে কোভিড মোকাবেলায় আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া এশিয়ান ইনফ্রাস্টচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি), কোরিয়া সরকারসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সহায়তায় প্রকল্প চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

মেডিভয়েস এর জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্ট গুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি