১১ জুন, ২০২০ ০৫:১৭ পিএম

ওষুধসহ যেসব স্বাস্থ্য উপকরণের দাম কমছে

ওষুধসহ যেসব স্বাস্থ্য উপকরণের দাম কমছে

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটে ওষুধসহ বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকরণের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে বেশ কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা’ শিরোনামে অর্থমন্ত্রী এ বাজেট প্রস্তাব করেন।

বাজেটে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাস্ক, পিপিই, গ্লাভস, গগলস, নানা ধরনের রাসায়নিক পণ‌্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে সব ধরনের কর মওকুফ করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে। করোনাভাইরাস শনাক্তে কিট উৎপাদনের কাঁচামাল, এ সংক্রান্ত কাজে গবেষণার জন‌্য ব‌্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব‌্য ও যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে। ফলে এসবের দামও কমবে।

এছাড়াও দাম কমতে পারে হাসপাতালের আইসিইউ, সিসিইউসহ জরুরি সেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের। জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসকে উৎসাহিত করতে এ সংক্রান্ত যাবতীয় যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। ভ্যান্টিলেটর উৎপাদনে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে গবেষণা ও উৎপাদনে আরো আকৃষ্ট করতে এ সংক্রান্ত যন্ত্রাংশে বিশেষ শুল্ক ও ভ্যাট ছাড় থাকবে বাজেটে। তাই এসব পণ‌্যের দাম কমবে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই), সার্জিক্যাল মাস্ক ও ফেস মাস্ক উৎপাদন এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোভিড-১৯ নিরোধক ওষুধের ক্ষেত্রেও উল্লিখিত তিন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় এসব সামগ্রীর দাম কমবে।’

তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রমসূহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ খাতের জন্য এ বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য করা প্রয়োজন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ সংক্রান্ত কার্যক্রম ১৩টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ বাস্তবায়ন করছে। আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপি’র ১.৩ ভাগ এবং মোট বাজেট বরাদ্দের ৭.২ ভাগ।’

বাজেট বক্তব্যের উপসংহার অংশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা। পাশাপাশি দেশের মানুষের অন্ন-বস্ত্র যোগানের জন্য দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা। এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছেন, তাদের বিশ্বাস ও মনোবলের জায়গাটি অটুট রাখতে। কারণ, তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন জীবন সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, থেমে থাকার জন্য নয়।’

বাঙালি জাতি শৌর্যবীর্যের এক মূর্ত প্রতীক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় জীবনে কালক্রমে যেসব সংকট ও দুর্যোগ এসেছে, বাঙালি জাতি সম্মিলিত শক্তির বলেই সেসব থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে। জাতির পিতার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা শত্রুর মোকাবিলা করে বিজয় অর্জন করেছি। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সবাই এক পরিবার হয়ে, একে অপরের সাহায্যে করোনাভাইরাস মোকাবিলা যুদ্ধেও আমরা জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ। এই ক্রান্তিকালে বিভ্রান্ত, ভীত বা আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের ধৈর্য্য এবং সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।’

  ঘটনা প্রবাহ : বাজেট
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক