০২ জুন, ২০২০ ১০:২৬ এএম

নিজ হাসপাতালেই চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ চিকিৎসকের!

নিজ হাসপাতালেই চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ চিকিৎসকের!

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে নিজ হাসপাতালেই চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন লৎফুল কবির শিমুল নামের চট্টগ্রাম ম্যাক্স হাসপাতালের একজন চিকিৎসক।

তিনি জানান, নিজের সংকটময় সময়ে একটি কেবিন আর বেঁচে থাকার জন্য একটি অক্সিজেন চেয়েও পাননি। বরং প্রতিষ্ঠানের এমডিকে ফোন করা হলে বিক্ষিপ্ত এবং এলোমেলো কথা বলে ফোনও কেটে দেন তিনি।

সোমবার (১ জুন) ডা. এএসএম লুৎফুল কবির শিমুল এই মর্মান্তিক ঘটনার সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন তার ফেসবুকে পোস্টে। তিনি মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকলেও সংযুক্ত আছেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট হিসেবে। এমনকি ওই ম্যাক্স হাসপাতালে চেম্বার করেন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ তার চিকিৎসক স্ত্রীও।

তবে চিকিৎসা না দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী।

অভিযোগকারী চিকিৎসক ডা. লৎফুল কবির শিমুল ফেসবুকে তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন- ‘অপ্রিয় সত্যকথন কেউ আঘাত পেলে পাক। আমি তখন খুবই অসুস্থ। অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০ এর নিচে নেমে যাচ্ছে। প্রথম কোভিড টেস্ট নেগেটিভ আসার পরেও দ্রুত স্যাচুরেশন নেমে যাওয়ায় আমি চিন্তা করছিলাম এটা কোভিড হতে পারে। আমি জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে একটু দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। চিন্তা করলাম আমার হাসপাতালের (ম্যাক্স হাসপাতাল) কেবিনে ভর্তি হয়ে অক্সিজেন নেব। পরে আরেকটি স্যাম্পল আসলে চমেক বা জেনারেলে ভর্তি হবো।

ঐ প্রতিষ্ঠানের এমডি মিথ্যা কথা বলে আমাকে ভর্তি নিতে চাইলেন না। বিক্ষিপ্ত এবং এলোমেলো কথা বলে ফোন কেটে দিলেন। একটা অক্সিজেন সিলিন্ডারও দিলেন না।

পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাসায় অক্সিজেন পাঠালেন। আইভি ক্যানুলেশন করালাম ওখানে। ওনারা কেবিনও প্রস্তুত রেখেছিলেন আমার জন্য। যদিও ওখানে ভর্তি হইনি। পরদিন চমেকে ভর্তি হলাম।’

স্ট্যাটাসে তিনি চমেক হাসাপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে লেখেন, ‘আমি পাপী বান্দার জন্য এতো মানুষ দোয়া করেছেন যে, আমি বাকরুদ্ধ। তবে কয়েকটি কৃমি কীটকে আমি ক্ষমা করে দিতে চাই। করোনা মানুষ চেনাবে। করোনার শিক্ষা যদি বেঁচে থাকি কাজে লাগাবো।’

এই বিষয়ে ডা. লুৎফুল কবির শিমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এই মুহুর্তে কথা বলতে আমি ইচ্ছুক নই। কারণ আমি এখনও অসুস্থ। পুরোপুরি ভালো হইনি। আমার বিষয়টি বিএমএ দেখছে। বিএমএ’র সঙ্গে ম্যাক্স হাসপাতালের কথা হবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ম্যাক্স হাসপাতালের এমডি লিয়াকত আলী খান বলেন, গত ১৫ মে তার জ্বর ও কাশি ছিলো। সে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছে কিন্তু কাশি কমেনি। তার ইনজেকশন লাগবে।

‘আমি তাকে বলেছি- তোমার কোভিড-১৯ নেগেটিভ এসেছে। তোমার তো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। তুমি ইনজেকশন কেন দেবে? তুমি অন্য কনসালটেন্টের সঙ্গে কথা বলো। পরে সে বললো ঠিক আছে, আমি আপনাকে জানাবো। তার যে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে- তা সে একবারও আমাকে বলেনি। সে যেটা বলছে কেবিন আর অক্সিজেন চেয়েছে তা পুরাই বানোয়াট। সে কেন এসব চেয়ে পাবে না। বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক বিব্রতকর লজ্জাজনক। তার কি মাথা গেছে নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে বুঝতেছি না। ডাক্তাররা এরকম একটা কঠিন পরিস্থিতি পার করছে তারমধ্যে সে ফেসবুকে এসব মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য কেমনে ছড়াচ্ছ?’

বর্তমানে ম্যাক্স হাসপাতালের একজনসহ মোট চারজন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়ে ম্যাক্স হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন বলেও দাবি লিয়াকত আলীর।

করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি