২৫ মে, ২০২০ ০১:৫৬ এএম

চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
রোববার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে রোববার জাতির উদ্দেশে দেয়া টেলিভিশন ভাষণে তিনি এ অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। পাশাপাশি ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের যাঁরা সামনে থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাদেরও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

রোববার বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার সহ বিভিন্ন বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলে এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

করোনার বিস্তাররোধে সরকারের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা চিকিৎসা সক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি করেছি। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাসপাতালকেও আমরা করোনাভাইরাস চিকিৎসায় সম্পৃক্ত করেছি।’

তিনি বলেন, ‘জরুরিভিত্তিতে ২ হাজার ডাক্তার এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। হাসপাতালগুলোতে সবধরনের রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ সরকারের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তাদেরকেও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় চালু করতে করোনাভাইরাস মহামারীকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী চলমান লকডাউন আরো শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনির্দিষ্টকাল জনগণের আয়ের পথ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়।  বিশ্বের প্রায় সকল দেশই ইতোমধ্যে লকডা্উন শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে তো নয়ই।’

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে করোনাভাইরাসের এই মহামারী সহসা দূর হবে না। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না। যতদিন না কোন প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করেই হয়তো আমাদের বাঁচতে হবে। জীবন-জীবিকার স্বার্থে চালু করতে হবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে জনগণের সহায়তায় সরকার যেসব কর্মসূচি চালু করেছে, তা বর্তমান সঙ্কট না যাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

করোনাভাইরাস মহামারীর প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে প্রাথমিকভাবে ২৬ মার্চ ১০ দিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। কোভিড-১৯ থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে তা ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একইসঙ্গে ২৬ এপ্রিল থেকে সরকার কিছু পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার অনুমতি দেয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা যায়, ৭ হাজার ২শ’ কারখানার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কারখানা খুলে দেয়ায় ঢাকার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের মতো বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি হেলথ কোড এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সারাদেশে বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) থাকা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো খুলে দেয়া হয়। ১০ মে থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাজার ও শপিংমল খোলারও অনুমতি দেয় সরকার।

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস