করোনা রোগীদের আশার আলো এক চিকিৎসকের গল্প
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বগুড়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের আশার আলো হয়ে উঠেছেন জেলার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল। তার নেতৃত্বে এই হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অক্লান্ত সেবা ও চিকিৎসায় ভর্তি মোট ২৬ জনকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠিয়েছেন। শুধু চিকিৎসা সেবা দিয়েই তার দায়িত্ব শেষ নয়, বরং কেউ করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে তার জানাজার ব্যবস্থাও করছেন হাসপাতাল চত্বরেই।
এসব কর্মযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে সারা জেলায় প্রশংসিত হয়েছেন এই চিকিৎসক।
হাসপাতালে কর্মরত অন্যান্য চিকিৎসকরা জানান, নিজে ডায়াবেটিক রোগী হয়েও করোনা ঝুঁকিতে থেকেও হাসপাতালের দায়িত্ব থেকে ছুটিতে যাননি, বরং দেশের এই ক্রান্তিকালে যেন তার ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মনোবল না হারায়, এ কারণে তাদের উৎসাহ যোগাচ্ছেন। এছাড়াও ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসা কর্মকর্তাদের কোয়ারেন্টাইনের জন্য একটি আধুনিক সুবিধা সম্বলিত বেসরকারি আবাসিক হোটেলেরও ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন ইউনিট ঘোষণার পর করোনায় আক্রান্ত বা সন্দিগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ প্রদানের জন্য তার উদ্যোগেই জেলায় প্রথম চালু হয় হটলাইন। সেই লাইনে ফোন দিয়েই বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িদহে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির স্বজনরা সহযোগিতা চান। ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবরে প্রতিবেশীদের কেউ এগিয়ে না গেলেও ডা. কাজলের প্রচেষ্টায় শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন চিকিৎসক যান সেখানে। পরে সেই মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।
এরপর বগুড়ার মহাস্থানে করোনা উপসর্গ নিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে যখন কেউ সহযোগিতার হাত বাড়াতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন বিষয়টি জেনে তিনিই উদ্যোগী হয়ে সেই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে শাহ আলম নামের ওই রোগী করোনা আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে তারই অধীনে চিকিৎসা নেয়। পরে সুস্থ হয়ে রংপুরের নিজ বাড়িতে ফিরে যান শাহ আলম।
করোনার কারণে বগুড়ায় যখন লকডাউন ঘোষণা করা হয়, তখন সকল প্রকার হোটেলসহ খাবার দোকান বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে তার হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনরা পড়েন চরম সমস্যায়। তাদের খাবার দেয়া নিয়ে সৃষ্টি হয় ঝামেলা। কারণ হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি না থাকলে তাকে খাবার দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। এর সমাধান করতে উদ্যোগী হন হাসপাতালের আরএমও ডা. কাজল। বগুড়ার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোগীর স্বজনদের খাবার সরবরাহ করতে সম্মত করেন তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূরুজ্জামান সঞ্চয় তার হাসপাতালের আরএমও ডা. কাজলকে একজন মানবিক গুণের চিকিৎসক উল্লেখ করে বলেন, নিজে উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিক রোগী হওয়ার পরও এই সময়ে ছুটির আবেদন করেননি। বরং তাকে ছুটিতে যেতে বলায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ মুহূর্তে তিনি ছুটিতে গেলে অন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল ভেঙে যাবে। ফলে তিনি নিজে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থেকেও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে আরএমও ডা. কাজল বলেন, দেশে এমন এক সময় চলছে যখন সকলে সম্মিলিতভাবে তা মোকাবেলা করা প্রয়োজন। এ কারণে আমি আমার দায়িত্বটুকুই পালন করছি। অন্যরা এ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন বলেই চিকিৎসা কাজ সহজ হয়ে গেছে। হাসপাতালের সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা একটি পরিবারের মতো হয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
-
০৮ জুলাই, ২০২৫
-
২৪ জুন, ২০২৫
-
২৩ জুন, ২০২৫
-
১৯ জুন, ২০২৫
-
১৮ জুন, ২০২৫
-
১৪ জুন, ২০২৪
-
০৭ জুন, ২০২৪
-
০৩ জুন, ২০২৪