প্রফেশনাল পরীক্ষা
সিওমেকে উপস্থিতি কাটার পরও আর্থিক জরিমানা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ক্লাসে অনুপস্থিত থাকায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের (সিওমেক) ৬৩তম এমবিবিএস ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে তিন হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত প্রফেশনাল পরীক্ষার ফি সাত হাজার ৮০০ টাকার বাইরে অতিরিক্ত এই অর্থ আদায়ের যৌক্তিকতা নেই।
একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, প্রায় দুই-তিন মাস আগে শিক্ষকদের অবগত করেই তাঁরা ছুটিতে যান। ছুটিতে যাওয়ার চার-পাঁচ দিন পর শিক্ষকরা তাঁদের আবার কলেজে ফিরে আসার নির্দেশ দেন। তবে হঠাৎ করে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়ায় টিকিট কাটা ও যাতায়াতের কারণে কয়েকজনের ফিরতে দুই-তিন দিন দেরি হয়। এ ঘটনায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তাঁদের ১০ দিনের উপস্থিতি কেটে দেওয়া হয়, যার মধ্যে শুক্রবারও অন্তর্ভুক্ত ছিল। শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে শাস্তি হিসেবে মেনে নিলেও পরবর্তী সময়ে নতুন করে জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষকেরা আমাদের ১০ দিনের অ্যাটেন্ডেন্স কেটে দিয়েছিলেন। আমরা এটাকে তাঁদের দেওয়া শাস্তি হিসেবে মেনে নিয়েছিলাম এবং এ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করিনি। আমিও নিয়মিত ক্লাস করতাম। তাই অ্যাটেন্ডেন্স কাটার পরও নিজের যোগ্যতায় প্রফেশনাল পরীক্ষায় বসার জন্য এলিজিবল হই। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যাওয়ায় তারা পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এমনকি অনেক ভালো শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ক্লাস শেষ হওয়ার পর অনেকে অতিরিক্ত রিকভারি ক্লাস করেছে, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষাও ক্লিয়ার করেছে। এত কিছুর পরও হঠাৎ করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তা ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। বিএমডিসি নির্ধারিত প্রফেশনাল পরীক্ষার ফি ৭ হাজার ৮০০ টাকা আমরা নিয়ম অনুযায়ী দেব। কিন্তু এর বাইরে অতিরিক্ত ৩ হাজার বা ৫ হাজার টাকা কেন দিতে হবে? এর কোনো যৌক্তিকতা আমরা দেখছি না।’
মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ
ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কলেজে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি কৃষকের সন্তানরাও পড়াশোনা করেন। তাঁদের অনেকের পক্ষে হঠাৎ করে অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকা জোগাড় করা কঠিন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপস্থিতি ৭৫ শতাংশের জায়গায় ৭৪ দশমিক ১১ শতাংশ হলেও জরিমানা দিয়ে পরীক্ষার আগের দিন ‘থার্ড ক্লিয়ারেন্স’-এর মাধ্যমে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হবে বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চেয়ে অর্থ আদায়ের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগও সীমিত।
অনুপস্থিতিতে দিনপ্রতি ৫০০ টাকা জরিমানার বিজ্ঞপ্তি
এদিকে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে গত ৬ আগস্ট জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে পরবর্তী প্রফেশনাল পরীক্ষার ফরম পূরণের ফির সঙ্গে তা যুক্ত করা হবে। এ ছাড়া অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেশনজট এড়াতে অর্থদণ্ডের সিদ্ধান্ত
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফা তৌফিক আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘জরিমানা কমানো হয়েছে। এটা আসলে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছিল। ওরা অননুমোদিতভাবে ছুটি নিয়ে চলে যায়। সিলেট মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা একটা নতুন কালচার শুরু করেছে—হঠাৎ করে পুরো বছরের ছুটি নিয়ে চলে যায়। ক্লাস বাদ দিয়ে এভাবে চলে যাওয়ার কারণে সেশনজট তৈরি হচ্ছে। অন্যান্য মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা যখন ইন্টার্নশিপ ট্রেনিং করছে, আমাদের শিক্ষার্থীরা তখনো পরীক্ষায় বসেনি। এ কারণে সেশনগত দিক থেকে কলেজটি পিছিয়ে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগেও অনেকবার সতর্ক করার পরও শিক্ষার্থীরা কথা না শোনায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অর্থদণ্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ দিন অনুপস্থিত থাকার জন্য প্রতিদিন ৫০০ টাকা হিসেবে মোট পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এতে একাডেমিক ক্যালেন্ডার মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জরিমানা কমানোর আবেদন জানিয়েছিল। আজ একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।’
জরিমানা পরিশোধ করলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ‘অবশ্যই জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় বসতে পারবে।’
এমআর/এমইউ/