বিএমইউতে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ‘টুগেদার ফর বেটার ক্যান্সার কেয়ার, এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’—এই অঙ্গীকার সামনে রেখে অত্যন্ত আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয় দিবসটি।
এ সময় বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও স্মৃতিচারণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলায় সংশ্লিষ্ট সবার অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের প্রতিটি অর্জন আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট এবং প্রতিটি সদস্যের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দলগত প্রচেষ্টাই আমাদের এগিয়ে চলার প্রধান শক্তি।’
ক্যান্সার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং বিএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যান্সার চিকিৎসা, উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সকল ক্যান্সার-সংশ্লিষ্ট বিভাগকে একীভূত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বিএমইউ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেন তিনি।
অধ্যাপক আকরাম হোসেন আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হলে বহুমাত্রিক ক্যান্সার চিকিৎসা, আধুনিক গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্টরা পারস্পরিক সহযোগিতা ও দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিভাগের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১৯ অক্টোবর বিএমইউতে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।
গত ২১ বছরে ক্যান্সার চিকিৎসা, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এই বিভাগ।
বর্তমানে এখানে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপিসহ বিভিন্ন আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষা, নিয়মিত মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ড, আধুনিক চিকিৎসা পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জেএইচ/