এফসিপিএস অর্জনকারী চিকিৎসকদের সম্মাননা দিল এরিস্টোফার্মা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) থেকে জুলাই ২০২৬ সেশনে ফেলোশিপ অব বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জন্স (এফসিপিএস) ডিগ্রি অর্জনকারী প্রায় ২০০ চিকিৎসককে সংবর্ধনা দিয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এরিস্টোফার্মা লিমিটেড। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের হাতে তাঁদের অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এরিস্টোফার্মার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, এফসিপিএস অর্জনের জন্য দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও একাগ্রতা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের এ সাফল্য তাঁদের জ্ঞান, রোগীদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকে এরিস্টোফার্মা গর্বের সঙ্গে সদ্য এফসিপিএস অর্জনকারী চিকিৎসকদের সাফল্য উদ্যাপন করে আসছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা চিকিৎসক সমাজের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা প্রকাশ করি এবং তাঁদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করি।’
মাহবুব হাসান আরও বলেন, এফসিপিএস অর্জনের মধ্য দিয়ে চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের আস্থা অর্জন ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার গুরুত্বও বেড়েছে। চিকিৎসকদের এ পথচলায় মানসম্মত ওষুধ, হালনাগাদ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শহীদ হাসান নবীন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এফসিপিএস ডিগ্রি শুধু একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি নয়; এটি চিকিৎসা পেশার মাধ্যমে মানবতার সেবা করার অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ‘আপনারা যখন সামনে এগিয়ে যাবেন, তখন মনে রাখবেন—নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞানের পাশাপাশি আপনারা রোগীদের আস্থা এবং একটি সুস্থতর সমাজের প্রত্যাশাও বহন করছেন।’
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার অগ্রযাত্রায় চিকিৎসকেরা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশ্বস্ত ওষুধ, নতুন বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক সহায়তার মাধ্যমে চিকিৎসকদের পাশে থাকতে চায় এরিস্টোফার্মা।
অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সদ্য এফসিপিএস অর্জনকারী চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, এফসিপিএস অর্জনের দীর্ঘ যাত্রায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও স্বজনদেরও নানা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। পড়াশোনা ও পেশাগত প্রস্তুতির কারণে অনেক সময় সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ব থেকে দূরে থাকতে হয়।
তিনি বলেন, ‘এই অর্জন শুধু আমার বা আমাদের একার নয়, এটা সবার।’ নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবার ও শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এফসিপিএস অর্জনের মধ্য দিয়ে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও চিকিৎসকদের প্রকৃত কর্মযাত্রা এখন শুরু। বৃহত্তর সামাজিক কল্যাণে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অর্থোপেডিক সার্জারিতে সদ্য ফেলোশিপ অর্জনকারী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ডা. ডি এম সোহাগ। তিনি বলেন, এফসিপিএস অর্জনের পর এমন আয়োজন তাঁর জন্য আনন্দের ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সাফল্য উদ্যাপনের সুযোগ থাকলেও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিশেষায়িত ডিগ্রি অর্জনের পর এ ধরনের স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সঙ্গে এরিস্টোফার্মার পেশাগত যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের জন্য তিনি এরিস্টোফার্মাকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে মেডিসিন, অবসটেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকোলজি, সার্জারি, পেডিয়াট্রিকস, চক্ষুবিদ্যা, কার্ডিওলজি, কার্ডিওভাসকুলার সার্জারি, পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি, এন্ডোক্রাইনোলজি, নাক-কান-গলা, অ্যানেসথেসিওলজি, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি, ফেটোম্যাটারনাল মেডিসিন, রিপ্রোডাকটিভ এন্ডোক্রাইনোলজি, হেপাটোবিলিয়ারি সার্জারি, রেডিওলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ইউরোলজি ও সাইকিয়াট্রিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগের চিকিৎসকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে এ আয়োজন তাঁদের পেশাগত জীবনে নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সহকর্মীদের সঙ্গে সাফল্য ভাগাভাগি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। আকর্ষণীয় পুরস্কার ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়। সম্মাননা প্রদান, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এরিস্টোফার্মার এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
এমআর/