ঢামেকে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচিতে বিশেষজ্ঞরা
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের সুস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এইচপিভি টিকা
মেডিভয়েস রিপের্টি: ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) শিক্ষার্থীদের জন্য হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। এ সময় জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি প্রতিরোধী টিকাদান কেবল সাধারণ কোনো কর্মসূচি নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের সুস্বাস্থ্যের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কলেজের ভিভিএফ কনফারেন্স রুমে গাইনি অনকোলজি ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় এ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢামেকের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাজহারুল শাহীন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম ফরহাদ হোসেন।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আশরাফুল আলম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) ক্যান্সার স্ক্রিনিং অ্যান্ড এলিমিনেশনের ফোকাল পয়েন্ট সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণই নারীদের জরায়ুমুখ ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। এর ঝুঁকি কমাতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভূমিকা রাখে এইচপিভি ভ্যাকসিন। এটি কেবল একটি সাধারণ টিকাদান কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের সুস্বাস্থ্যের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
উপযুক্ত বয়সে কিশোরী ও তরুণীদের এই টিকার আওতায় আনার ওপর জোর দিয়ে বক্তারা আরও জানান, টিকা সম্পর্কে অভিভাবকদের মাঝে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং অমূলক ভয় ও ভুল ধারণা দূর করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব।
টিকা নেওয়ার পাশাপাশি স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এইচপিভি টিকা জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হলেও তা নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের বিকল্প নয়। নির্দিষ্ট বয়সে নারীদের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসতে হবে। রোগ প্রতিরোধ, সময়মতো টিকাদান, নিয়মিত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসার সম্মিলিত উদ্যোগই ক্যান্সার নির্মূলে কার্যকর ফল দিতে পারে।
ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ করাই সর্বোত্তম উল্লেখ করে বক্তারা এইচপিভি ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
জেএইচ/এমইউ/