সাশ্রয়ী ফান্ডাস ক্যাম উদ্ভাবনের স্বীকৃতি, ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত চক্ষু বিশেষজ্ঞ মমিনুল ইসলাম
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও ব্যবহারিক চক্ষুপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক ও উদ্ভাবক ডা. মমিনুল ইসলাম বাধন। বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব অপথালমোলজি (বিএও) আয়োজিত বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তাঁর উদ্ভাবিত ফান্ডাস ক্যাম ডিভাইসের জন্য এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ডা. মমিনুল ইসলাম বাধনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় চক্ষু রোগ নির্ণয়ে প্রযুক্তিটিকে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ হিসেবে তাঁর উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ডা. মমিনুল ইসলাম বাধন ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেটিনা ও ইউভিয়াইটিস বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ও সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে উন্নত চক্ষুসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে আসছেন।
সভায় জানানো হয়, চোখের বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে ফান্ডাস ক্যামেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। চোখের ভেতরের রেটিনা, অপটিক নার্ভসহ বিভিন্ন অংশের ছবি ধারণ করে রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। প্রচলিত প্রযুক্তির তুলনায় আরও সহজে ব্যবহারযোগ্য, সাশ্রয়ী ও ব্যবহারিক একটি ফান্ডাস ক্যাম ডিভাইস উদ্ভাবনের মাধ্যমে চক্ষু রোগ নির্ণয়ের সুযোগ সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন ডা. বাধন।
পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় ডা. মমিনুল ইসলাম বাধন বলেন, ‘২০২৬ সালের ১৯তম বাংলাদেশ একাডেমি অব অপথালমোলজি সম্মেলনে আমার উদ্ভাবিত ফান্ডাস ক্যাম ডিভাইসের জন্য ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত। এই স্বীকৃতি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও ব্যবহারিক চক্ষুপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে উন্নত চক্ষুসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
এ সম্মাননার জন্য বাংলাদেশ একাডেমি অব অপথালমোলজি, বিচারকমণ্ডলী, তাঁর মেন্টর, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাঁদের সমর্থন ও উৎসাহ এই অর্জনকে সম্ভব করেছে বলেও উল্লেখ করেন ডা. বাধন।
তাঁর উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দেশের চক্ষু চিকিৎসায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত ও সীমিত চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন এলাকায় চক্ষু রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমআর/এমইউ/