০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৪৭ পিএম

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ডিসেম্বরের শুরুতে নাকি মাঝামাঝিতে, ঘোষণা ২-১ দিনের মধ্যে

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ডিসেম্বরের শুরুতে নাকি মাঝামাঝিতে, ঘোষণা ২-১ দিনের মধ্যে
প্রতীকী ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ আগামী ২-১ দিনের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। বন্যায় বিভিন্ন বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের একাধিক পরীক্ষা এখনো চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সময় কমে যাওয়ায় পরীক্ষা ডিসেম্বরের শুরুতে, নাকি মাঝামাঝিতে হবে—তা নিয়ে ভাবছে ভর্তি কমিটি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিক দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ঘোষিত ভর্তি পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। আর ১২ ডিসেম্বর ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষা। সেক্ষেত্রে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে না পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রস্তুতির জন্য তাদের সময় প্রয়োজন হয়। 

এমন প্রেক্ষাপটে এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার দিন নির্ধারণে আপনাদের পরিকল্পনা কী—জানতে একটি সূত্র জানায়, ‘সবকিছু বিবেচনায় রেখেই এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন। খুব শিগগিরই জানানো হবে। আমার ধারণা, স্যার এক-দুই দিনের মধ্যেই ঘোষণা করবেন।’

তবে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা কবে নাগাদ হতে পারে তা জানাতে সম্মত হয়নি সূত্রটি।

পরীক্ষা পেছানোর দাবি ভর্তিচ্ছুদের

তথ্য মতে, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ড, মাদ্রাসা বোর্ড ও কারিগরি বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছিল। এসব বোর্ডের মোট একাধিক পরীক্ষা বাকি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও। স্থগিত পরীক্ষাগুলো ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ‘পরীক্ষার স্থগিতের কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। তারা এখনো পরীক্ষার প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষার মধ্যে থাকায় মানসিক চাপ ও ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ৯ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই তারা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে।’

তারা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ অবস্থায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা তার আগে নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে ১১ ডিসেম্বর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলে পরদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দিতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের বিষয়টিও এতে জটিল হয়ে উঠবে।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষার পর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য অন্তত এক সপ্তাহ সময় পাবে। বিগত বছরগুলোতেও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষার এক সপ্তাহ থেকে ১০-১৫ দিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় পেতেন ভর্তিচ্ছুরা।

বিগত বছরগুলোর পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল সাধারণত পরীক্ষার দুই-তিন দিনের মধ্যেই প্রকাশিত হয়। ফলে যারা মেডিকেলে সুযোগ পান না, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আরও মনোযোগ দিতে পারেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। তাই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের পরে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হবে বলেও মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

তারা জানান, চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। তারা ইতোমধ্যে পরীক্ষাজনিত কারণে পিছিয়ে রয়েছে। তাই এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় না দিয়ে দ্রুত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করলে তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ কম থাকায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাটি পরে আয়োজন করাই শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

‘এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাতায়াত এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা আগেভাগে নিজেদের প্রস্তুতির পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে’—বলেন তারা।

পরীক্ষা ডিসেম্বরের শুরুতে নাকি শেষে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ শুধু আমাদের উপর নির্ভরশীল না। এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলও একটা ব্যাপার। আমরা যতদূর শুনেছি, নভেম্বরের ১৫ তারিখে ফল হতে পারে। কিন্তু এর আগেরবার আরও আগে ফলাফল দিয়েছে। ফলে পুরো ব্যাপারটা আমাদের উপর নির্ভর করে না। যদিও আমরা ডিসেম্বরের মধ্যেই পরীক্ষা আয়োজনের চেষ্টা করছি।’

‘আমরা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। যদি নভেম্বরের ১৫ তারিখে ফল দেয়, তাহলে ডিসেম্বরের শুরুতে করলে ঝামেলা, ছেলেমেয়েরা প্রস্তুতির জন্য অল্প দিন পাবে। আবার শেষ দিকে দিলে সেশন এগিয়ে আনতে সরকারের যে পরিকল্পনা সেটা হোঁচট খাবে। এজন্যই নভেম্বরের ১৫ তারিখ ফলাফল দিবে কি-না, এটা একটু নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি, তারপরে জানাব। আমাদের ভর্তি কমিটির সবাই মিলে নিশ্চয়ই একটা ভালো চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে এমবিবিএস পরীক্ষা হবে। এটা মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু শুরু না শেষ, সেটা আলোচনার বিষয়। প্রথমে ডিসেম্বরের শুরুর দিকে হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু এখন নভেম্বরের ১৫ তারিখে এইচএসসির ফলাফল দেওয়া হবে—এ রকম চিন্তাভাবনার তথ্য পেলাম, এ কারণে একটু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’

শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় ম্যাসেজ দিয়েছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তারাই তো আমাদের ছেলেমেয়ে। তাদের যৌক্তিক দাবি সবসময় মেনে নেব।’

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত