৩০ অগাস্ট, ২০২৬ ০৩:২১ পিএম

বিএমইউতে দিনব্যাপী ‘পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন’ বিষয়ক হাতে-কলমে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বিএমইউতে দিনব্যাপী ‘পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন’ বিষয়ক হাতে-কলমে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের জীবন মানের উন্নয়ন ও চিকিৎসকদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন’ বিষয়ক দিনব্যাপী হাতে-কলমে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রোববার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন হল এক্সটেনশনে ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের (বিএসপিএমআর) যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে ফুসফুসের সাধারণ গঠন (অ্যানাটমি), পুনর্বাসনের আধুনিক পদ্ধতি, প্রাথমিক মূল্যায়নের কৌশল (প্রি-অ্যাসেসমেন্ট টুলস) এবং ক্লিনিক্যাল সিমুলেশনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বিএমইউর ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম. এ. শাকুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী।

অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী বলেন, ‘ফুসফুসীয় পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে। আমরা বিএমইউকে এ ক্ষেত্রে একটি ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

চিকিৎসাসেবায় ফিজিক্যাল মেডিসিন, পালমোনোলজি (বক্ষব্যাধি), ফিজিওথেরাপি, নার্সিং ও পুষ্টিবিজ্ঞানসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সমন্বিত (মাল্টিডিসিপ্লিনারি) উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. এম. এ. শাকুর বলেন, ‘সিওপিডি, হাঁপানি বা ফুসফুসের ফাইব্রোসিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে শুধু ওষুধই সবসময় যথেষ্ট হয় না। রোগীরা ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারান। বিশেষ করে স্বল্প খরচে (লো-রিসোর্স সেটিং) পুনর্বাসনের মাধ্যমে সর্বস্তরের রোগীদের পুনরায় কর্মক্ষম ও স্বনির্ভর করে তোলাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, এবং প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজিজেস অব দ্য চেস্ট অ্যান্ড হসপিটালের (এনআইডিসিএইচ) পরিচালক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও বিএমইউর ডিন অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উল্লাহ মুন্সী এবং চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (চ্যাব) মহাসচিব ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া।

বক্তারা দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের চিকিৎসায় বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টার (মাল্টিডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ) ওপর জোর দেন। ড্যাব মহাসচিব ডা. শাকিল বিএসপিএমআর-এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিবছর এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

কর্মশালায় প্রধান রিসোর্স পার্সন হিসেবে দিকনির্দেশনা দেন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিএম মনসুর হাবিব। তিনি পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমের উন্নয়নে তাঁর সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনের একটি সুসংগঠিত ও দক্ষ সেক্টর গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানেও আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাদিম কামাল এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য আয়োজক ও বক্তাদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগীদের নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (পার্সড লিপ ব্রিদিং), হাঁটাচলা ও হালকা ব্যায়াম করার পাশাপাশি সঠিক নিয়মে ওষুধ ও ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা জরুরি। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে একটি চেয়ারে সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে বসলে বা কোনো কিছুতে ভর দিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে দাঁড়ালে আরাম পাওয়া যায়। তবে ইনহেলার ব্যবহারের পরও শ্বাসকষ্ট না কমলে, ঠোঁট নীল হয়ে গেলে, বুকে ব্যথা, অতিরিক্ত মাথা ঘোরা বা কথা বলতে কষ্ট হলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত