০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৪৫ পিএম

বিএমইউতে ১১ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন, ৮১ নার্স পেলেন ক্রিটিক্যাল কেয়ার প্রশিক্ষণের সনদ

বিএমইউতে ১১ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন, ৮১ নার্স পেলেন ক্রিটিক্যাল কেয়ার প্রশিক্ষণের সনদ
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ১১ শয্যাবিশিষ্ট নতুন আইসিইউ-১ উদ্ধোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিংয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৮১ জন নার্সের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সি-ব্লকের ১০ম তলায় অধ্যাপক ডা. সামাদ সেমিনার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইসিইউ-১ এর উদ্বোধন ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সদের সনদ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. হাসনুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত ও আধুনিকায়নের বিষয়ে বিএমইউ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। একটি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অনেকাংশে চিকিৎসক ও নার্সদের দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, মুমূর্ষু রোগীদের সেবায় প্রশিক্ষিত ও দক্ষ নার্সিং সেবার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। বিশেষ করে ক্রিটিক্যাল কেয়ারে নার্সিং সেবার প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীদের প্রয়োজন বিবেচনায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।

ভিসি আরও বলেন, বিএমইউতে ইভিনিং ও নাইট শিফটে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আরও বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষিত নার্সের প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নার্সিং পেশা বিশ্বে একটি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও মহৎ পেশা। জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নার্সরা যাতে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিএমইউ প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদেশে নার্সদের দায়িত্ব পালনের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে নার্সরাই হাসপাতালের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং চিকিৎসকদের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন।

রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন ঢাকার সভাপতি রোটারিয়ান খালিদ হাসান বলেন, রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন ঢাকা এর আগেও বিএমইউতে প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেছে। ভবিষ্যতেও ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে রোটারি ক্লাবের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, অ্যানেসথেসিয়া, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও নার্সিং—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া সময়ের দাবি। অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগ বিএমইউর ৫৬টি বিভাগের মধ্যে জনবল ও কর্মপরিধির দিক থেকে অন্যতম বিস্তৃত ও অগ্রগামী বিভাগ।

তিনি বলেন, একসময় শুধু অস্ত্রোপচারের সময় অচেতন করার পদ্ধতি হিসেবে অ্যানেসথেসিয়ার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এ বিভাগের কর্মপরিধি প্রি-অপারেটিভ কেয়ার, পেইন মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, ইমার্জেন্সি কেয়ার ও রিসাসসিয়েশন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল জানান, সার্জিক্যাল ফ্যাকাল্টির বিভিন্ন বিভাগকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে মেডিসিন, নার্সিং, ডেন্টাল ও বেসিক সায়েন্স ফ্যাকাল্টির ৩৪টি বিভাগকেও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ সরাসরি সাপোর্ট দিচ্ছে। একসময় শুধু সি-ব্লকে ৮টি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্লকে ওটির সংখ্যা বেড়ে ৪৮টিতে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিভাগের অধীনে বর্তমানে ৫২ শয্যার তিনটি আইসিইউ/এইচডিইউ, ৫০ থেকে ৬০ শয্যার চার থেকে পাঁচটি পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড এবং ওটি-সহ একটি পেইন ক্লিনিক পরিচালিত হচ্ছে।

অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল দ্রুত ১৫টি অ্যানেসথেসিয়া মেশিন ক্রয়, আইসিইউতে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন, মনিটরসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং পেইন মেডিসিনের জন্য এমআরআই, ইউএসজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিএমইউতে বৈকালিক ওটি চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দ্রুত জনবল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ভার্চুয়াল অ্যানেসথেসিয়া স্কিল ল্যাব এবং ডাটা ক্যাপচারিং নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, বর্তমানে অ্যানেসথেসিয়া বিভাগে সাতটি ডিভিশন রয়েছে—জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো অ্যানেসথেসিয়া, পেডিয়াট্রিক অ্যানেসথেসিয়া, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার অ্যানেসথেসিয়া, ট্রান্সপ্লান্ট অ্যানেসথেসিয়া, পেইন মেডিসিন এবং আইসিইউ।

বিভাগটির দ্রুত বর্ধমান প্রশাসনিক, একাডেমিক, ক্লিনিক্যাল ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের সমন্বয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও দেশের রোগীদের প্রয়োজন বিবেচনায় অ্যানেসথেসিয়া, ইনটেনসিভ কেয়ার সার্ভিসেস ও সংশ্লিষ্ট অ্যালায়েড ডিসিপ্লিনগুলো নিয়ে একটি পৃথক নতুন ফ্যাকাল্টি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রিজিওনাল অ্যানেসথেসিয়া ও পেইন মেডিসিন ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান, সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. মন্তোষ কুমার মণ্ডল, অধ্যাপক ডা. দিলীপ কুমার ভৌমিক, সহকারী অধ্যাপক ডা. রেফায়েত উল্লাহ সিদ্দিক, সহকারী অধ্যাপক ডা. তাজ উদ্দিন আহমেদসহ বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট শিক্ষার্থী ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত