২৬ অগাস্ট, ২০২৬ ০৬:১৩ পিএম

জাকসুর ‘লাইফ সাপোর্ট’ ও ‘ফার্স্ট এইড’ প্রশিক্ষণে ব্যাপক সাড়া

জাকসুর ‘লাইফ সাপোর্ট’ ও ‘ফার্স্ট এইড’ প্রশিক্ষণে ব্যাপক সাড়া
ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) ও প্রাথমিক চিকিৎসা (ফার্স্ট এইড) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।

আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ও রিদম বাংলাদেশ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে জরুরি জনস্বাস্থ্যবিষয়ক এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, সিপিআর ও অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর (এইডি) ব্যবহারের প্রশিক্ষণ, ক্ষতস্থানের পরিচর্যা ও রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ, হাড় ভাঙা ও পোড়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক করণীয় এবং ফার্স্ট এইড কিট ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন রিদম বাংলাদেশ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. এসএম মামুন। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে আমরা যত ভালো কাজ করি না কেন, যদি আমরা একজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারি, তাহলে এর থেকে ভালো কিছু আর হতে পারে না।’

এ ছাড়া কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল রক্তচাপ মাপার যন্ত্র (স্ফিগমোম্যানোমিটার), স্টেথোস্কোপ, নেবুলাইজার, ওজন মাপার যন্ত্র ও থার্মোমিটার।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক দক্ষতা অর্জন এবং ক্যাম্পাসে একটি নিরাপদ ও সচেতন পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আহসান বলেন, জাকসুর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে অনেকগুলোই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। তবে এই আয়োজনটির গুরুত্ব একটু ভিন্ন। মাঠে কোনো খেলোয়াড় বা হলে কোনো শিক্ষার্থী সংকটে পড়লে, চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। অন্তত কোন চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত, কীভাবে ভেঙে যাওয়া পা ধরে সতর্কতার সঙ্গে রোগীকে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে—এ ধরনের প্রাথমিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘দুঃখজনকভাবে, এ ধরনের আয়োজন আমাদের পক্ষ থেকে করা সম্ভব হয়নি। জাকসু যাদের (রিদম) সহযোগিতায় এই আয়োজন করেছে, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তারা যে সহযোগিতা করেছেন এবং যে চিন্তা থেকে এটি করেছেন, তার চেয়েও এই কর্মকাণ্ডের তাৎপর্য আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের জন্য অনেক বেশি’—বলেন তিনি।

জাকসু ও রিদমকে এই আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বিষয় নির্ভুলভাবে রপ্ত করতে এর ফলোআপ প্রোগ্রাম করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, জাকসু আমাদের সঙ্গে এই সংযোগটি তৈরি করে দেবে। আমরা নিজেদের পক্ষ থেকেও আবার আয়োজন করব এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অগ্রগতি কতটা হয়েছে, তা পর্যালোচনা করব। আমি প্রত্যাশা করছি আপনারা দয়া করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।’

জাকসু স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত