১৯ অগাস্ট, ২০২৬ ০৭:৩১ পিএম

ঢামেক অধ্যাপকের ওপর হামলার প্রতিবাদে শহীদ মিনারে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

ঢামেক অধ্যাপকের ওপর হামলার প্রতিবাদে শহীদ মিনারে চিকিৎসকদের মানববন্ধন
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চিকিৎসকদের মানববন্ধন। ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) নাক কান গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসকরা। এসময় তারা অধ্যাপক আসাদুর রহমানসহ সারাদেশে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার দাবি করেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সোসাইটি অব অটোল্যারিংগোলজিস্ট অ্যান্ড হেড–নেক সার্জনস অব বাংলাদেশ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি যৌথভাবে এই মানববন্ধনের করে।

মানববন্ধনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকেরা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। হামলাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বক্তারা চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে সরকারকে আহ্বান জানান।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, ‘হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল ড্যাবের সভাপতি পুলিশ কমিশনার ও আইজির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁরা আশ্বস্ত করেছিলেন, অচিরেই অন্যান্য আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবও এসেছিলেন। তাঁরাও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, অবিলম্বে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে। আমরা আশা করি, আগামী সংসদেই স্বাস্থ্য ও চিকিৎসক সুরক্ষা আইন পাস হবে।

জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, ‘সব পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থা বেশিদিন চলতে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার যখন উন্নতি হয়, তখন পাশের দেশের মেডিকেল ট্যুরিজম কমে যায়। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এ ধরনের অরাজকতা কোনো ষড়যন্ত্রের অংশও হতে পারে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকেরা যদি নিরাপত্তা না পান, যদি কাজের পরিবেশ না পান, তাহলে বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। আমরা চাই, প্রান্তিক পর্যায়েও ঢাকা মেডিকেল কলেজের মতো উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে উঠুক। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সোসাইটি অব অটোল্যারিংগোলজিস্ট অ্যান্ড হেড–নেক সার্জনস অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন বলেন, মৃত্যু প্রতিরোধ করতে পারবে এমন গ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসা করতে পারবেন না চিকিৎসকেরা, তাঁদের জ্ঞান দিয়ে রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য চেষ্টা করবেন। বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজ বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত এই কাজ করে যাচ্ছে ও ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাবে।

অধ্যাপক মো. মাজহারুল শাহীন আরও বলেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে, সে জন্য চিকিৎসক সুরক্ষা আইন এবং রোগী সুরক্ষা আইন তৈরি হোক। কোনো চিকিৎসক দোষী হলে প্রচলিত আইন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু কোনো কারণে, বিনা কারণে, উসকানিমূলকভাবে বা বিনা প্ররোচনায় চিকিৎসকদের ওপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না।

ড্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় আমাদের কয়েক দিন পরপরই প্রতিবাদে দাঁড়াতে হচ্ছে। আমরা যেসব ঘটনা দেখতে পাই, সেসবের প্রতিবাদ করি। কিন্তু এমন অনেক ঘটনাও রয়েছে, যেগুলো আমাদের কানেও পৌঁছায় না, অথচ প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে একটি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা কীভাবে চলবে? আমরা এভাবে আর কত প্রতিবাদ করব? এসব ঘটনার সঠিক বিচার না হলে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চলতেই থাকবে।

তিনি আরও বলেন,‘ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের আতঙ্কের মধ্যে রেখে স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি অবিলম্বে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানাই।’

ড্যাবের সহ-সভাপতি ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন বলেন, বর্তমানে দেশে সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, চিকিৎসকদের কোনো নিরাপত্তা নেই। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। আমরা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। চিকিৎসকদের ওপর হামলা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা আমরা কখনোই মেনে নেব না।

বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, চিকিৎসকদের ওপর হামলা বন্ধে অবিলম্বে চিকিৎসা সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় ড্যাবের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের নিয়ে এসব হামলা ও অরাজকতা প্রতিরোধে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার সময় গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমান।

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক