সিলেটে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, বিভাগে প্রাণহানি ১১০
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সিলেট বিভাগে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। এর মধ্যে হামের উপসর্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগটিতে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১০ জনে দাঁড়িয়েছে।
মারা যাওয়া শিশুটির নাম আব্দুল্লাহ আল আদিল। তার বয়স এক বছর ১১ মাস। সে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৮৩ জন ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় আরও ১৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
নতুন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪ জন ভর্তি হয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২১ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে আটজন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয়জন ভর্তি হয়েছে।
এ ছাড়া রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারজন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন এবং অন্যান্য কয়েকটি হাসপাতালে আরও কয়েকজন রোগী ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এক জানুয়ারি থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে পরীক্ষার মাধ্যমে ৬৩৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২৭ জন। সিলেটে ২১৩ জন, হবিগঞ্জে ৬১ জন এবং মৌলভীবাজারে ৩৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হবিগঞ্জের শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলায় আক্রান্ত।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৮৬ জন। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৬ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছে।
এ ছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২১ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন এবং নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালেও বেশ কিছু সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে র্যাশসহ হামের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এনএইচ/