‘বেতন এখানে, সেবা দিবে রাজশাহী-ঢাকায়, এটা সমীচীন নয়’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক চিকিৎসক ডেপুটেশন নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ করেছেন নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু। তিনি বলেন, ‘আমার উপজেলায় বেতন নিতে আসবে আর সেবা দিবে রাজশাহী, ঢাকা, অন্য জায়গায়—এইটা সমীচীন হয় না। এভাবে আমার জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’
গত ৯ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবকাঠামোগত দুরবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি শিশুস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের দাবি জানান ডা. টিপু।
এ সময় ডেপুটেশনে থাকা সব চিকিৎসকের ডেপুটেশন বাতিলের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে চিকিৎসক যে কর্মস্থলে নিয়োগপ্রাপ্ত, সেখানে থেকেই দায়িত্ব পালন করা উচিত। অন্যত্র কাজ করার প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী বদলি নিয়ে যেতে পারেন।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের ডেপুটেশন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. ইকরামুল বারী টিপু। বলেন, অনেক চিকিৎসক উপজেলার নামে পদায়ন পেলেও ডেপুটেশনে ঢাকাসহ অন্যত্র কর্মরত থাকেন। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
‘আমার উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে যেসব ডাক্তারকে পোস্টিং দেওয়া হয়, তাদেরকে ডেপুটেশনে আবার অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে বেতন নিতে আসবে আর সেবা দিবে রাজশাহী, ঢাকা, অন্য জায়গায়—এইটা সমীচীন হয় না। এভাবে আমার জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে’—বলেন তিনি।
আলোচনায় ডেপুটেশনে থাকা চিকিৎসকদের অনতিবিলম্বে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে এনে সেখানেই দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। একই সঙ্গে অন্যত্র কাজ করতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী বদলি নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী বলেন, অনেক ইউনিয়নভিত্তিক উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশ ও অবকাঠামো এতটাই নাজুক যে সেখানে চিকিৎসা নিতে গেলে রোগীদের সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত হয় না। এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট পরিকল্পনা জানতে চান তিনি।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, সরকার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে এসব হাসপাতালে একটি করে আধুনিক শিশু ওয়ার্ড স্থাপনেরও আহ্বান জানান তিনি। ডা. টিপু মনে করেন, উপজেলা পর্যায়ে শিশু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় বিশেষায়িত শিশু চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন রয়েছে।
পরে সরকারের আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে তিনি তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন ও প্রকল্পের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান উন্নত করা হবে।
চিকিৎসকদের ডেপুটেশন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে চিকিৎসকদের ডেপুটেশন বাতিলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেক চিকিৎসককে নিজ নিজ উপজেলায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়, তবে সরকার ধাপে ধাপে সব উপজেলায় চিকিৎসক পদায়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
এ ছাড়া মাতৃস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারির জন্য লেবার রুম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে পৃথক লেবার রুম ও ব্রেস্টফিডিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এমইউ/