বাংলাদেশে তামাক বর্জনকে টেকসই করতে বিএমইউর জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বাংলাদেশে তামাক বর্জন (টোব্যাকো সেসেশন) সেবাসমূহকে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় টেকসইভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) খুলনায় রূপসা স্ট্যান্ড রোডের সিএসএস আভা সেন্টারে পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের আয়োজনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘ইন্টিগ্রেশন অব টোব্যাকো সেসেশন সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ থ্রু টেকনিক্যাল সাপোর্ট, স্টেকহোল্ডার ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, অ্যান্ড মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের (বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগ) অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি এবং সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও নীতি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের মূল সমন্বয়কারী ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল হক। কর্মশালায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী ডা. তাসলিমা চৌধুরী, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে একটি উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার আলোচনায় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাবৃন্দ তৃণমূল পর্যায়ে তামাক বর্জন সেবা বাস্তবায়নে 'মাস্টার ট্রেইনার' নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ কাঠামোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন। এছাড়া বক্তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি শেখ মোমেনা মনি বক্তব্যে তামাকজনিত বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের তামাকাসক্তি প্রতিরোধে স্কুল-কলেজভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কারণে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে, যার জন্য জাতীয় নীতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি) মহাপরিচালক ও যুগ্মসচিব মো. আখতারুজ্জামান এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মো. মামুনুর রশিদ তাদের বক্তব্যে জানান যে, বিভিন্ন সূচক ও বাস্তবায়ন সম্ভাবনা বিবেচনা করে খুলনা বিভাগকে এই প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে এবং এখানে সফল হলে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এস.কে. মো. মোশাররফ হোসেন স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।
কর্মশালায় খুলনা বিভাগের দশটি জেলার সিভিল সার্জন, ডেপুটি ডিরেক্টর, বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ভূতপূর্ব লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক সৈয়দ জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআই/