আবাসন সংকট
অনির্দিষ্টকালের ক্লাস বর্জনে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: আবাসন সংকটে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ব্যাচেলর অব মেডিসিন, ব্যাচেলর অব সার্জারির (এমবিবিএস) ২১তম ব্যাচ ও ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারির (বিডিএস) ১৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীরা। বারবার আশ্বাসের পরও সংকটের সমাধান না হওয়ায় গত ১৬ দিন ধরে ক্লাসের বাইরে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোহরাওয়ার্দীর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিয়ান মেডিভয়েসকে বলেন, চলতি বছরের ৩ মে ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই আবাসন সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। সে সময় ইন্টার্ন হোস্টেল সংস্কার ও স্থানান্তর প্রক্রিয়ার কারণে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়। পূর্বে হোস্টেলে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পর ইন্টার্ন হোস্টেল খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও ফার্নিচার, বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এখনো ইন্টার্নরা সেখানে স্থানান্তরিত হতে পারেননি।
তিনি বলেন, প্রায় ৪৫ দিন পার হলেও এখনো ইন্টার্ন হোস্টেলে ফার্নিচার স্থাপন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়নি। ফলে ইন্টার্ন ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
নাহিয়ান আরও জানান, ঈদের আগে মাত্র দুই সপ্তাহ ক্লাস হলেও পরবর্তীতে ৬ তারিখ থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংকটের কারণে তা আর কার্যকর হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তবে পরে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এর প্রতিবাদে গত ১ জুন থেকে ক্লাস বর্জন করছেন নবীন শিক্ষার্থীরা।
আজ এই সংকট থেকে উত্তরণের দাবি জানিয়ে কতৃপক্ষের নিকট যৌথ বিবৃতি দেয় তারা। এতে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এই আবাসন সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও, আজ ৪৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও, আবাসন সংকট সমাধান হয়নি এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত হোস্টেল এলোটমেন্ট পায়নি।’
বিবৃবিতে আরও বলা হয়, ‘এর পরিপ্রেক্ষিতে, আমরা, শসোমেক ২১তম ব্যাচের পক্ষ থেকে ক্লাস বয়কটের ঘোষণা দিচ্ছি। আবাসন সংকটের পূর্ণাঙ্গ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই বয়কট জারি থাকবে।’
একই সমস্যা থাকায় বিডিএস ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস বর্জন করেছেন।
শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের হোস্টেল সুপার ডা. মির্জা গোলাম সারওয়ার মুন মেডিভয়েসকে বলেন, মূল সমস্যা হচ্ছে হোস্টেল ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোগত সংকট এবং আসবাপত্রের ঘাটতি। বর্তমানে নির্ধারিত ইন্টার্ন হোস্টেলটি মাল্টিপারপাস হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় সেখানে ইন্টার্নদের স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিচের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আসন খালি করা যাচ্ছে না।
ডা. মুন বলেন, হোস্টেলে পর্যাপ্ত ফার্নিচার নেই এবং নতুন ফার্নিচার কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট এখনো মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হয়নি। এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিষয়টি ঝুলে আছে।
তিনি আরও জানান, পর্যাপ্ত বাজেট পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইন্টার্নদের হোস্টেলে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। এতে ফার্স্ট ইয়ারসহ অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জায়গা খালি হবে এবং ক্লাস স্বাভাবিকভাবে শুরু করা যাবে।
দেরি হওয়া প্রসঙ্গে হোস্টেল সুপার বলেন, হোস্টেল ব্যবস্থাপনায় পূর্বে পরিচালক না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ডেপুটি ডিরেক্টরকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করছেন।
তিনি দাবি করেন, সমস্যার সমাধানে তারা প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আবাসন নিশ্চিত করা না গেলে তাদের জন্য চিকিৎসা শিক্ষাজীবন শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এমআই/এমইউ