১৫ মে, ২০২৬ ০৩:৩৪ পিএম

একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ অপরিণত শিশুকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠাল বিএমইউ

একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ অপরিণত শিশুকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠাল বিএমইউ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে বিরল এক সাফল্যের নজির গড়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)।  নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (এনআইসিইউ) নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ অপরিণত ও স্বল্প ওজনের শিশুকে সফলভাবে সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী নবজাতকদের মা-বাবার হাতে শিশুদের তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, নিওন্যাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান এবং ফিটোম্যাটারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তাবাছসুম পারভীনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

বিএমইউ (ভিসি) অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী এ ঘটনাকে বিএমইউর বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

নিওন্যাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান জানান, গত ৫ এপ্রিল ৩০ বছর বয়সী এক মায়ের গর্ভে ৩৩ সপ্তাহ বয়সে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় পাঁচ শিশু, যার মধ্যে দুইজন কন্যা ও তিনজন পুত্র। বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ ও ফিটোম্যাটারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতারের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।


জন্মের সময় শিশুদের ওজন ছিল যথাক্রমে ১৪২০ গ্রাম, ১২৫০ গ্রাম, ১৪১০ গ্রাম, ৯৮৫ গ্রাম এবং ১৬২৫ গ্রাম। অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় তাদের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। পরে দ্রুত তাদের এনআইসিইউতে ভর্তি করে সিপ্যাপ সাপোর্ট, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বুকের দুধ নিশ্চিতকরণ এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়। চিকিৎসকরা জানান, জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা হয়, যা তাদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিবারকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস নিশ্চিত করা হয়।

এ ছাড়া শিশুদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’ চালু করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, মায়ের বুকের সঙ্গে ত্বকের সংস্পর্শে রাখার এ পদ্ধতি শিশুদের ওজন বৃদ্ধি, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং মা-শিশুর বন্ধন দৃঢ় করতে সহায়তা করেছে। জন্মের পাঁচ দিন পর পরিকল্পিত আগাম ছাড়পত্রের অংশ হিসেবে শিশুদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ফলোআপ চিকিৎসা শেষে ৩০ দিন বয়সে দেখা যায়, পাঁচ শিশুরই ওজন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সবাই সুস্থ রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সময়মতো এনআইসিইউ কেয়ার, বুকের দুধ খাওয়ানো, সিপ্যাপ ব্যবস্থাপনা, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার নিশ্চিত করা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ প্রিম্যাচিউর নবজাতকদেরও সফলভাবে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একসঙ্গে পাঁচ প্রিম্যাচিউর শিশুর জন্ম এবং তাদের সুস্থ করে তোলা অত্যন্ত বিরল ও চ্যালেঞ্জিং ঘটনা।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক