০৫ মে, ২০২৬ ০৭:৫৬ পিএম

বিশ্ব হাঁপানি দিবস আজ

বিশ্ব হাঁপানি দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: অ্যাজমা একটি প্রদাহজনিত রোগ, যার কার্যকর চিকিৎসা থাকলেও বাস্তবে অনেক রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নেন না। অনেকে শুধু রিলিভার ইনহেলার ব্যবহার করেন, প্রতিরোধমূলক (কন্ট্রোলার) চিকিৎসা নেন না। ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বারবার অ্যাজমা অ্যাটাক হয় এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে।

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) বিশ্ব হাঁপানি দিবস। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয়, ‘অ্যাজমা রোগীদের সবার সবার জন্য অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ইনহেলারের প্রাপ্যতা—এখনো একটি জরুরি প্রয়োজন, যা অ্যাজমা চিকিৎসায় বিদ্যমান বৈষম্য ও সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ অ্যাজমায় আক্রান্ত। বাংলাদেশে এ নিয়ে সর্বশেষ বড় জরিপ হয় ১৯৯৯ সালে। যেখানে রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ বলা হয়। পরবর্তী গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতি ১০০ জনে ৪ থেকে ৭জন অ্যাজমায় আক্রান্ত। বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রোগীর সংখ্যা এক কোটির বেশি এবং বছরে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এ রোগে মারা যায়।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন এক লাখ ৫৬ হাজার অ্যাজমা রোগী। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ নারী। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী রোগী ৪৭ শতাংশ, ৫০ বছরের বেশি ৩৬ শতাংশ। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ হাজার ৩৯০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন এক হাজার ১৭০ জন এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন আরও ১৫৫ জন। মৃতদের ৭০ শতাংশই পুরুষ, আর প্রায় ৭৫ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের বেশি। গত পাঁচ বছরে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিক বেড়েছে। ২০২০ সালে রোগী ছিল ৯৮ হাজার ৯৯১ জন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজারে অর্থাৎ বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। একই সময়ে মৃত্যুও বেড়েছে ৬১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা, সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া গেলে অ্যাজমাজনিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। কারণ সঠিক চিকিৎসা থাকলে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণযোগ্য, অবহেলা হলে তা প্রাণঘাতী।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অ্যাজমা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে চললে একজন রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। এ জন্য অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ইনহেলার সহজলভ্য করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় এর ব্যবহার বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা। 

জেএইচ/এমআই

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক