২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:০৮ পিএম

চলে গেলেন চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ আব্দুল কুদ্দুস

চলে গেলেন চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ আব্দুল কুদ্দুস
বিশিষ্ট চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল কুদ্দুস। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাবেক ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস মারা গেছেন।

আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে বিএমইউর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন আজ বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নিজের ওয়ালে এক পোস্টে এই খবর দিয়েছেন। 

মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গিয়েছেন তিনি।

ডা. আব্দুল কুদ্দুস ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর চক্ষু রোগ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

আজ বিকাল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অংশ নেন।

পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বাদ আসর নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) বাদ যোহর জানাজা শেষে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পারিবারিক করবস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

এদিকে তাঁর মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন শোক জানিয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের ওপর জীবদ্দশায় চলা বৈষম্য নিয়ে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, ‘ডা. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন একজন মেধাবী, সৎ ও নীতিবান চিকিৎসক। কিন্তু অত্যন্ত বেদনাদায়ক সত্য হলো, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক অবিচারের শিকার ছিলেন।’

‘দেশসেরা মেধাবীদের একজন হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছিল, যা নিছক একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্ট ব্যবস্থার প্রতিফলন। দুঃখজনকভাবে, শুধু একটি সময় নয় পরবর্তী সময়গুলোতেও, এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়েও তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিতই থেকে গেছেন’—যোগ করেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম।

তিনি বলেন, ‘যাচাই-বাছাইয়ের নামে যে প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে হয়রানি ও অপমানের একটি ধারাবাহিকতায়। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মানিত চিকিৎসকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। এই অবিচার, অবহেলা ও মানসিক চাপ তাঁর জীবনের শেষ সময়কে যে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে—তা অনস্বীকার্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা শুধু একজন চিকিৎসককে হারাইনি—হারিয়েছি একজন ন্যায়বঞ্চিত মানুষকে, যিনি একটি অসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার নির্মম বাস্তবতার সাক্ষ্য হয়ে রইলেন। এই মৃত্যু শুধু শোক নয়, বরং এটি একটি নীরব অভিযোগ, একটি কঠিন প্রশ্ন এবং আমাদের সবার জন্য একটি বিবেকের পরীক্ষা।’

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক