২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:২৬ পিএম

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মালামাল চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মালামাল চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের মালামাল চুরির ঘটনায় জড়িত অভিযোগে হাসপাতালের কম্পিউটার অপারেটর ও প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হাসপাতালের কম্পিউটার অপারেটর মো. মামুন এবং প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ। 

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও বিএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফুল্লাহ মুন্সী দুপুরে মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সকাল ১১টার দিকে তাদেরকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছি।’

এদিকে তাদেরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।

গ্রেপ্তার হওয়া কম্পিউটার অপারেটর ও প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে উল্লেখ করে পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে হাসপাতালের আর কেউ জড়িত কি না, তা নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।

এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) গভীর রাতে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বেজমেন্ট থেকে চুরির ঘটনা ঘটে। একটি চক্র হাসপাতালের নির্মাণকাজের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ছয়টি পিকআপ ভ্যানে করে এসব সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে হাসপাতালের নিরাপত্তা বলয় ডিঙিয়ে কার্টনে ভর্তি সরঞ্জাম পিকআপে তোলা হয়। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, লুটপাটের একটি ভিডিও ফুটেজ তাদের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, মালামাল ভর্তি একটি পিকআপের চালক বলছেন এসব সরঞ্জাম গুলশান কাঁচাবাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. সাইফুল্লাহ মুন্সী বলেছেন বলেন, ‘২০২৩ সালে প্রজেক্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পর তখন হুন্দাই কোম্পানির অব্যবহৃত কিছু মালামাল ওরা রেখে যায়। নির্মাণকাজের কিছু ভাঙারি পর্যায়ের, যেমন—রড, ম্যাটালিক ও অ্যালুমিনিয়ামের কিছু জিনিসপত্র; যা তারা নিতে পারেনি। সেগুলো বেজমেন্টে স্টোরের মধ্যে ছিল। দেখতে পেলাম, এসব সামগ্রী কেউ কেউ অনুমতি ছাড়া নিয়ে গেছে।’

অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মুন্সী বলেন, ‘আশা করি, দু-চার দিনের মধ্যে একটা ফলাফল বেরিয়ে আসবে। কিছু লোক আছে, যারা ভাঙারি জিনিস বিক্রি করে অর্থ কামাই করে থাকে। আমরা ইতিমধ্যে তাদের কাউকে কাউকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই মুহূর্তে নাম বলা যাচ্ছে না। কারও কারও বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সম্পৃক্তদের শাস্তি প্রদানের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা চিকিৎসক মানুষ। অপরাধীদের সঙ্গে কাজ করা কঠিন।’

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত