সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে লুট হওয়া মাল চিকিৎসা সরঞ্জাম নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে লুট হওয়া মালামাল চিকিৎসা সরঞ্জাম নয় জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এগুলো ভবন নির্মাণসামগ্রী। তবে লুটে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একথা জানান।
অনুষ্ঠানে জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বিএমইউ এবং চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে ছয় ট্রাক চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা সরঞ্জাম না ..., এখনো সমস্ত মালগুলো চেক করা যায়নি। তবে আপনাদেরকে নিশ্চয়তার সঙ্গে বলতে পারি, এগুলো লোহা জাতীয় জিনিস, কনস্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়ালের পার্ট—আমরা ভিডিওতে যা দেখেছি।’
এ সময় জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘ইতোমধ্যে একটা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করবে। সে যে-ই হোক না কেন, যারাই এর সঙ্গে জড়িত, যত বড় অফিসারই হোক, আমরা প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করব। যদি চাকরিজীবী হয়ে থাকে, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
এ ছাড়াও সম্প্রতি কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য বড় হাসপাতালে অস্ত্রসহ ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু লোক আমাদের সম্মানিত ডাক্তারদের ওপর আঘাত হানে। এক ঘণ্টা আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, তিনি নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পাঁচশ’ হাসপাতালে আমরা আগামী কিছু দিনের ভেতরে দশজন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগ করতে যাচ্ছি ইনশাল্লাহ।’
এ সময় সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাসের (টিকার) মজুদ আছে। যক্ষ্মা, বিসিজিসহ নয়টি টিকার সবগুলো আমাদের হাতে আছে।’
‘আমাদের স্টকে আছে এবং অন দ্য লাইনে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ। পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত আমরা ভ্যাকসিন দিয়ে যেতে পারবো,’ যোগ করেন তিনি।
সাখাওয়াত বলেন, ‘বিগত সরকারগুলো ২০২০ সালের পর থেকে ভ্যাকসিন দেয় নাই, যে কারণে হাম পরিস্থিতিটা সৃষ্টি হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘(হাম প্রতিরোধক) ভ্যাকসিনের স্টক ছিল না। আমরা খুব তড়িৎ গতিতে—ওই সপ্তাহে আমরা শুরু করতে পারি নাই, কিন্তু পরের সপ্তাহ থেকে আমরা গ্যাভির (বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র শিশুদের জন্য টিকা কিনতে সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা) সাহায্যে, ইউনিসেফের সাহায্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে আমরা সারাদেশে টিকাদান শুরু করেছি।’
‘জলাতঙ্কের টিকার একটি সংকট হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে আমরা সমাধান করেছি। একটা ক্লজ ছিল, বাইরে থেকে এই ভ্যাকসিনটা পরীক্ষা করিয়ে আনতে হতো। যে কারণে সরবরাহ নিতে অনেক দেরি হয়েছিল। আমরা ওই ক্লজটা প্রত্যাহার করেছি। অ্যান্টির্যাবিস ভ্যাকসিনের সবচেয়ে বড় উৎপাদক ইনসেপ্টা এবং পপুলার থেকে আমরা স্থানীয়ভাবে (টিকা) সংগ্রহ শুরু করেছি’—যোগ করেন তিনি।
আগামী দেড় মাসের ভেতরে (অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিনের) বাফার স্টক আসছে বলেও জানান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
গ্রাম এলাকায় টিকার সংকট নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এমএসআর এবং এডিবি ফান্ড থেকে টিকা কেনা হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এই সমঝোতা শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারিত্ব নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সার্জিক্যাল উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে একটি যৌথ অঙ্গীকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা আরো জোরদার হবে।
তিনি বলেন, চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশে রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন ও কার্ডিওভাস্কুলার সেবাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সহায়তা করেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, চীনের কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি ইউরোলজি বিষয়ের প্রফেসর লি জিয়ংমিং, কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ডাইরেক্টর প্রফেসর লি ওয়েনলিয়াং, ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর হি ইয়ংওয়েন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমইউ/