দেশের চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা
বিএমইউতে অকার্যকর দাঁত অপসারণ করে চোয়ালে সফল ‘সাবপেরিওস্টিয়াল ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জন্মগত রক্তাল্পতা (থ্যালাসেমিয়া) আর বিরল রোগ ‘লিউকোসাইট অ্যাডহেশন ডিজিজ’র সাথে লড়াই করে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই দাঁত হারিয়ে ফেলেছিল এক কিশোরী। অকেজো হয়ে পড়েছিল খাবার চিবানোর ক্ষমতা। তবে আধুনিক চিকিৎসার কল্যাণে এবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
রোববার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই কিশোরীর দুই চোয়ালে সফলভাবে অকার্যকর দাঁতগুলো স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশি ও বিদেশি সার্জনদের সমন্বয়ে ‘সাবপেরিওস্টিয়াল ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টও সম্পন্ন হয়েছে। জটিল এ সার্জারির মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচিত হয়েছে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।
বিএমইউর তথ্য অনুযায়ী, ১৬ বছরের ওই কিশোরী জন্মগত রক্তের রোগ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত এবং পরবর্তীতে তার দেহে বিরল রোগ লিউকোসাইট অ্যাডহেশন ডিজিজ রোগ ধরা পড়ে। এ অবস্থায় শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, এতে গুরুতর দাঁতের রোগ পেরিওডন্টাইটিস দেখা দেয়। ধীরে ধীরে সকল দাঁত নড়বড়ে হয়ে পড়ে এবং কার্যকরভাবে খাবার চিবাতে না পারার কারণে তার সামগ্রিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। রোগীর মুখের স্বাস্থ্য পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সকল অকার্যকর দাঁত অপসারণ করে দুই চোয়ালে আধুনিক সাবপেরিওস্টিয়াল ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মাহমুদা আক্তারের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন অধ্যাপক ডা. শাহিদ আজিজ এই জটিল সার্জারিতে অংশগ্রহণ করেন। সফলভাবে দুই চোয়ালে সাবপেরিওস্টিয়াল ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়।
লাইভ সার্জারি হিসেবে পরিচালিত এই অপারেশনে ডেন্টাল ফ্যাকাল্টির ডিন সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফুল আজম রঞ্জু উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভাগের সকল শিক্ষক, মেডিকেল অফিসার ও রেসিডেন্টগণ এই গুরুত্বপূর্ণ সার্জারিতে উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে ডা. সাইফুল আজম রঞ্জু মেডিভয়েসকে বলেন, ‘দাঁতের মাড়ির জটিল রোগে (সিভিয়ার পেরিওডন্টাইটিস) ওই কিশোরীর সবগুলো দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল। কমে গিয়েছিল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। এতে তার সবগুলো দাঁত ১৪-১৫ বছরেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমরা দাঁতগুলো ফেলে দিয়ে সাবপেরিওস্টিয়াল ইমপ্ল্যান্ট করি।’
তিনি আরও বলেন, এই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর মুখের সৌন্দর্য পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিকভাবে খাবার চিবানোর সক্ষমতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সহায়তা করবে।
ডেন্টাল সার্জনরা জানিয়েছেন, এই সফল উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষতা, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এমইউ/