ঢামেকের নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারুক আহাম্মদ
মেডিভয়েস কিরপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদ। তিনি একই মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পারসোনেল-১ শাখার উপসচিব মুহাম্মদ মকবুল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে নামের পাশে উল্লেখিত পদে ও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বদলি/পদায়নকৃত কর্মকর্তাকে আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। যোগদানের আগে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে এবং এইচআরএম ডাটাবেজ থেকে ‘মুভ আউট’ হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ‘মুভ ইন’ হতে হবে। যোগদানের পর পিডিএস হালনাগাদ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পদায়নকৃত কর্মকর্তার যোগদানপত্র স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পার-১ শাখার ই-মেইলে পাঠাতে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দায়িত্ব পালন করবেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে
নিয়োগের পর মেডিভয়েসের সঙ্গে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এর আগে আমি এখানে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সে সময় প্রশাসনিক কার্যক্রমের কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আল্লাহতায়ালা যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন, তা ছাত্র, শিক্ষক ও সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পালন করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঐতিহ্য ও সুনাম বজায় রাখতে যা যা করণীয়, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করি।’
লক্ষ্য আবাসন ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করা
সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়ে অধ্যাপক ফারুক বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সংকট হলো আবাসন সমস্যা।’ এই আবাসন ব্যবস্থাকেই তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান। তাঁর ভাষায়, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও উপযোগী বাসস্থান নিশ্চিত করা ছাড়া একটি মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষার পরিবেশকে আরও সুন্দর ও কার্যকর করা। পরীক্ষার কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয় এবং নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম চালু থাকে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।’ তিনি জানান, ‘৫ আগস্টের পর কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও তা ইতোমধ্যে অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে একাডেমিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের সঙ্গে বসে আরও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) থেকে দেওয়া নির্দেশনা ও গাইডলাইনের আলোকে এসব পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আজও একাডেমিক কাউন্সিলের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একটি একাডেমিক গ্রুপ এ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।’
অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদ বলেন, একাডেমিক পরিবেশ যেন শতভাগ বজায় রাখা যায়, সেটিই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে এসব বিষয় বজায় রাখার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন।
টিআই/