ইসরায়েলি বাধায় বিপর্যস্ত গাজায় শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গাজায় শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি তীব্র বাধার মুখে পড়েছে তহবিল সংকট ও সরঞ্জাম সরবরাহে প্রতিবন্ধকতার কারণে। শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ, ফর্মুলা দুধের বোতল এবং টিকা সংরক্ষণের ফ্রিজসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ইসরায়েল গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশু স্বাস্থ্যের ওপর। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজার শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইউনিসেফের উদ্যোগে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৪ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংস্থাটি জানায়, বরাদ্দ করা ১৬ লাখ সিরিঞ্জ এবং টিকা রাখার ফ্রিজ এখনও গাজায় প্রবেশের অনুমতি পায়নি।
ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস বলেন, ‘আমরা যতটুকু সহায়তা দিচ্ছি তা যথেষ্ট নয়। টিকা ও পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্রসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ইসরায়েল গাজায় ঢুকতে দিচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এসব সরঞ্জাম আটকে আছে।’
টিকাদান কর্মসূচি তিন ধাপে চলছে, এবং প্রথম দিনেই দুই হাজার ৪০০ শিশুকে টিকা দিতে সক্ষম হয়েছে ইউনিসেফ। যদিও যুদ্ধবিরতির সময়ে কিছু ত্রাণ গাজায় পৌঁছেছে, তা ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত ও অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের জন্য যথেষ্ট নয়।
গাজায় টিকা না পাওয়া এক শিশুর স্বজনরা বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে আমার নাতি সময়মতো টিকা নিতে পারেনি। পরিবেশ দূষণও অনেক নতুন রোগ ছড়িয়েছে। এই টিকাগুলো শিশুদের রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত জরুরি।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) ও জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থার (ইউএনআরডাব্লিউএ) সহায়তায় ইউনিসেফ হাজারো শিশুকে টিকা দিতে পারবে বলে আশা করছে। চলতি টিকাদান কার্যক্রম চলবে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত।
ইউনিসেফের মুখপাত্র আরও জানান, ‘আগস্ট থেকে সীমান্তে ৯ লাখ ৩৮ হাজার শিশুখাদ্যের বোতল আটকে রয়েছে। এগুলো অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জীবন রক্ষায় ব্যবহার করা যেত। টিকাদানের পাশাপাশি গাজায় ক্ষুধা মোকাবিলায় আরও খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন।’
গাজায় দুই বছর ধরে চলমান যুদ্ধের কারণে হাম, পোলিও, নিউমোনিয়া—এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বহু শিশু, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।