০৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৯:১১ পিএম
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন

আইএইচটি-ম্যাটসের ডিগ্রিধারীদের পেশাগত পরিচয় ‘মেডিকেল সহকারী’

আইএইচটি-ম্যাটসের ডিগ্রিধারীদের পেশাগত পরিচয় ‘মেডিকেল সহকারী’
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা ‘মেডিকেল সহকারী’ হিসেবে অভিহিত হবেন। রোববার (২ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা বলা হয়েছে।

কর বিভাগ (১০ম গ্রেড হইতে ২০তম গ্রেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ এ বলা হয়েছে, ‘ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।’

গত ১২ মার্চ হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাড়া অন্য কেউ তাঁদের নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে ‘ডিএমএফ’ ডিগ্রিধারীদের নামের আগে ব্যবহার করা সম্মানসূচক শব্দ নির্ধারণে ছয় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালাত।

বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম বলেন, এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাড়া অন্য কেউ তাঁদের নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। আজ পর্যন্ত যাঁরা ব্যবহার করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে মামলা হবে না। কেননা রিটের পরিপ্রক্ষিতে ডিএমএফধারীদের বিরুদ্ধে মামলা বা কার্যধারা গ্রহণ না করার নির্দেশনা ছিল। এত দিন মামলা (রিট) চলছিল। তবে কাল বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) থেকে তারা নামের আগে ডাক্তার শব্দ ব্যবহার করতে পারবেন না। ব্যবহার করলে আইন অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

এর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন হয়। ‘ডিএমএফ’ ডিগ্রিধারীদের (ডিপ্লোমাধারী হিসেবে নিবন্ধিত) ক্ষেত্রে আইনটির বৈষম্যমূলক প্রয়োগের অভিযোগে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএমএ) তৎকালীন আহ্বায়ক শামসুল হুদাসহ অন্যরা ২০১৩ সালে একটি রিট করেন। ওই আইনের ২৯ ধারার বৈধতা নিয়ে বিডিএমএর সভাপতি ও সেক্রেটারি গত বছর অপর রিটটি করেন।

প্রথম রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৩ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। দ্বিতীয় রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৫ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে আইনের ২৯ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের ওপর একসঙ্গে শুনানি হয়। প্রথম রুল (ডিসচার্জ) খারিজ ঘোষণা এবং দ্বিতীয় রিটটি নিষ্পত্তি করে ১২ মার্চ রায় দেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন নিবন্ধন করা কোনো মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এমন কোনো নাম, পদবি, বিবরণ বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করবেন না, যার ফলে তার কোনো অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে বলে কেউ মনে করতে পারে, যদি না তা কোনো স্বীকৃত মেডিকেল চিকিৎসাশিক্ষা যোগ্যতা বা স্বীকৃত ডেন্টাল চিকিৎসাশিক্ষা যোগ্যতা হয়ে থাকে। ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিপ্রাপ্তরা ব্যতীত অন্য কেউ তাঁদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না।’ 

২৯(২) ধারায় রয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি উপধারা (১)–এর বিধান লঙ্ঘন করলে তা হবে একটি অপরাধ এবং সে জন্য তিনি ৩ (তিন) বছর কারাদণ্ড বা ১ (এক) লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং ওই অপরাধ অব্যাহত থাকলে প্রতিবার এর পুনরাবৃত্তির জন্য অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বর্ণিত দণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে দণ্ডনীয় হবেন।’

এ রায়ের প্রায় সাড়ে সাত মাস পর এই উদ্যোগ নিল রাষ্ট্র।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত