১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৭:০০ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নানা পোস্ট, পেজ নিজের নয় বলে দাবি ইউএইচএফপিওর

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নানা পোস্ট, পেজ নিজের নয় বলে দাবি ইউএইচএফপিওর
ডা. মুশফিকুর রহমান রাজীব

আবু নাঈম মনির: নওগার আত্রাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) হিসেবে সদ্য যোগ দেওয়া ডা. মুশফিকুর রহমান রাজীবের বিরুদ্ধে নিজের ভেরিফায়েড পেজের কাভার ফটোতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি আপলোড এবং মোদির বিভিন্ন ছবি পেজে পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ দিন ধরে সক্রিয় এ পেজে নিয়মিত পাবলিশ করা সকল পোস্টই বহাল তবিয়তে রয়েছে। তবে ইউএইচএফপিও হিসেবে যোগদান করা নিয়ে তাঁর পোস্টটি বিতর্কের মুখে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মোদিকে নিয়ে অব্যাহতভাবে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া পেজটি (Musfiqur Rahman Rajib) নিজের নয় বলে দাবি করেছেন ডা. রাজীব। সোমবার দুপুরে মেডিভয়েসকে মুঠোফোনে তিনি বলেন, এটি তার নয়, এসব নিয়ে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন।

ডা. মুশফিকুর রহমান রাজীব বলেন, গত পরশু নওগার আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জয়েন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সকাল বেলায় ইউএনও স্যার আমাকে বলেছেন, তখনই আমি আমার উপজেলার পেজ থেকে একটি ঘোষণা দিয়েছি। আমি পারসোনালি কোনো আইডি চালাই না। পারসোনাল কোনো আইডি নেই। পরিষ্কার বলতে চাচ্ছি, আমি এই আইডি চালাই না। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভও না। ফেসবুকে আমার নামে কোনো আইডি যেন কেউ ফলো না করে। আপনারা এটা পড়ে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। আমার যদি কাউকে কিছু বলার থাকে, তাহলে হেল্থ কমপ্লেক্সের পেজে বলে দেওয়া হবে।’

এই পেজ তাহলে আপনার না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না আমি চালাই না। এমন আছে না, অনেকের নামে আইডি চালায়? এ রকম হতে পারে। কিন্তু আমি নিজস্ব কোনো ফেসবকু আইডি চালাই না। কেউ যদি আমার নামে করে থাকে, আমি না করে দিয়েছি, আমার নামে কেউ যেন আইডি না চালায়। এটা হেল্থ কমপ্লেক্সের পেজে বলে দিয়েছি। আর খবর নেওয়ার চেষ্টা করছি, কারা আমার নামে ফেসবুক আইডি চালায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এতো দিন মেডিকেল অফিসার ছিলাম, প্রশাসনিক পদে প্রথম আসলাম। আমি আপনাদের সাহায্য-সহযোগিতা চাই, তাহলে কাজটা করতে পারবো। না হলে আমাকে এখান থেকে চলে যেতে হবে।’

পেজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে পোস্ট রয়েছে—এমন প্রসঙ্গ আনলে তিনি বলেন, ‘এগুলো অনেক ব্যাক ডেটেড, আপডেট কিছু না। এগুলো আমার না, এসব নিয়ে আপনারা মোটেও বিভ্রান্ত হবেন না।’

‘ইন্টারনেটের এই যুগে হ্যাকিংটা একটু বেড়ে গেছে। একজনের আইডি থেকে এগুলো দেওয়া খুব কষ্টের কাজ না, যারা এগুলো করে’—মন্তব্য ডা. মুশফিকুর রহমান রাজীবের।

তাহলে কে বা কারা এটি করে থাকতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মাঝে মাঝে দেশের বাইরেও যাই, সেখান থেকে হতে পারে। আসলে কেন হবে, কী কারণে হবে, তা আমি জানি না।’

জানতে চাইলে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘উনি গত শনিবার জয়েন করেছেন। নতুন ইউএইচএফপিওর পেজের কাভার ফটোতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি থাকাসহ তাকে নিয়ে করা পোস্টগুলোর বিষয়ে তারা অবগত নন।’

সিএস অফিসের কারণ দর্শানোর নোটিস

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিদর্শনে আত্রাই সফররত নওগাঁর সিভিল সার্জন (সিএস) ডা. মো. আমিনুল ইসলাম আজ দুপুরে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা উনাকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দিয়েছি। আমাদের কাছে অস্বীকার করেছেন। লিখিত জবাব দিতে হবে। উনি ব্যাখ্যা দিক। এর পর তার আলোকে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুক পেজে ইউএইচএফপিওর বিতর্কিত পোস্টের ব্যাপারে খোঁজ নিতে নওগাঁর সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দিয়েছেন ডিডি পার-১। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কথা হয়েছে। সেখানেও (অধিদপ্তর) অবহিত করা হবে।

‘নিজের নামে দীর্ঘ দিন পরিচালিত ও নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ হওয়া একটি পেজ সম্পর্কে ডা. রাজীব অবহিত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি যে কথায় বলুক, শোকজের জবাব পাওয়ার পর সে আলোকে আমরা ব্যবস্থা নেবো’—যোগ করেন ডা. আমিনুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, ‘ডা. মুশফিকুর রহমান রাজীব এই এলাকায় ছিলেন না। এই বিভাগেও দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি ঢাকা বিভাগের মুন্সীগঞ্জে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখানে পদায়ন হয়েছে মাত্র তিন দিন হলো। এখন আমরা তার পেজের বিতর্কিত পোস্টের বিষয়ে জানতে পারলাম, যেভাবে আপনারা জানতে পেরেছেন।’

ডা. রাজীব অধিদপ্তর থেকে পদায়িত হয়েছেন জানিয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন বলেন, ‘অধিদপ্তরে আমি কথা বলেছি। অধিদপ্তর বলেছে, যখন তার জবাব পাবো, তাঁদেরকে পাঠাতে।’

ছাত্র-জনতার আকাঙক্ষার বাংলাদেশে এর বিপরীত পথে হাঁটা ডা. রাজীব প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করার যোগ্যতা রাখেন না বলেই মনে করেন তিনি। জানান, ইউএইচএফপিওর ব্যাপারে যে অভিযোগ এসেছে, চাকরি অবস্থায় তিনি তা করতে পারেন না।

দিনাজপুর মেডিকেল থেকে বহিষ্কার

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুশফিকুর রহমান রাজীব দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত অভিযোগে ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে (শেবাচিম) পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তার সময়ে দিনাজপুর মেডিকেলে পড়াশোনা করা একাধিক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে অভিযোগ করেছেন, মেডিকেলে পড়ার সময় রাজীব নিজেকে কখনো আওয়ামী লীগ নেতা আমীর হোসেন আমু কখনো বা অন্য কোনো নেতার লোক বলে পরিচয় দিতেন।

শিক্ষার্থীদের মারধর

জানা গেছে, দিনাজপুর মেডিকেলে পড়ার সময় অনেক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ৩০তম বিসিএস পরীক্ষা চলার সময় ঢাকার টিটি কলেজের সামনে এক শিক্ষার্থী চড়থাপ্পর মারেন রাজীব।

মেডিকেলের সাবেক শিক্ষার্থীদের দাবি, ডা. মুশফিকুর রহমান রাজীব প্রশাসক হিসেবে পদায়ন নয়, তাকে অবশ্যই জেলে পাঠাতে হবে।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক