০৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০১:১৬ পিএম

গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেলেন বিএমইউর ডা. আবুল কালাম আজাদ

গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেলেন বিএমইউর ডা. আবুল কালাম আজাদ
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৫ উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন)  অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। চিকিৎসা শিক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

রোববার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম ফায়েজসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।

এ বছর প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত মোট ১২ জন গুণী শিক্ষককে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

গুণী শিক্ষক সম্মাননা পাওয়ায় অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদকে সোমবার (৬ অক্টোবর) বিএমইউ ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা  ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘অধ্যাপক আজাদের এই অর্জন আমাদের গর্বিত করেছে। তাঁর নেতৃত্ব, কর্মদক্ষতা ও একাগ্রতা চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।’

অধ্যাপক আজাদের চিকিৎসা ও শিক্ষা যাত্রা

অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে বিএমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একই সঙ্গে ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি একজন প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। তাঁর বাবা অধ্যাপক ডা. আব্দুল করিম মোল্লা ছিলেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও খ্যাতিমান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

অধ্যাপক আজাদ ১৯৯৬ সালে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে। এরপর ২০০১ সালে এফসিপিএস (মেডিসিন) ডিগ্রি এবং এএসএইচএবি মেমোরিয়াল গোল্ড মেডেল অর্জন করেন।

তিনি ফেলো অফ রয়েল কলেজ অফ এডিনবার্গ (এফআরসিপি) এবং রয়েল কলেজ অফ লন্ডন এর ফেলোশিপও লাভ করেন।

শিক্ষাজীবনের শুরুতেই ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশ ফিজিওলজি অ্যান্ড ফার্মাকোলজিক্যাল সোসাইটি থেকে ফিজিওলজি ও বায়োকেমিস্ট্রিতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রফেসর আব্দুর রহমান মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

গবেষণা ও পেশাগত অবদান

অধ্যাপক আজাদের রয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে ৬০টিরও বেশি গবেষণা প্রকাশনা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এফসিপিএস, এমসিপিএস, এমডি, ডিপ্লোমা, এমআরসিপি (ইউকে) সহ দেশ-বিদেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

পেশাগত জীবনে তিনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে সিনিয়র রেজিস্ট্রার, বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। বিএমইউতে তিনি সহকারী অধ্যাপক থেকে শুরু করে বর্তমানে অধ্যাপক হিসেবে চিকিৎসা শিক্ষার উচ্চপর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্পৃক্ততা

তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, এসোসিয়েশন অফ ফিজিশিয়ানস অফ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ রিউমাটোলজি সোসাইটিসহ একাধিক পেশাগত সংগঠনের আজীবন সদস্য।

এছাড়া তিনি বিসিপিএস-এর মেডিসিন অনুষদের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির সাবেক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রফেসর আব্দুল করিম মোল্লা দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল।

টিআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত