০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:৫৭ পিএম

বকেয়া বেতন চেয়ে এএমসি প্রকল্পের স্বাস্থ্যকর্মীদের মানববন্ধন, চাকরি রাজস্বে স্থানান্তরের দাবি

বকেয়া বেতন চেয়ে এএমসি প্রকল্পের স্বাস্থ্যকর্মীদের মানববন্ধন, চাকরি রাজস্বে স্থানান্তরের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বকেয়া বেতনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার (এএমসি) প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ৩৫৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী। একই সঙ্গে চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরেরও দাবি জানান তারা। আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এএমসি প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, চতুর্থ সেক্টর প্রোগ্রামের এএমসি প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজে কলেজে কর্মরত ৩৫৪ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর বেতন গত বছরের জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে। তবে বেতন বন্ধ থাকলেও আজ পর্যন্ত শিক্ষা ও সেবা কার্যক্রম অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দিয়ে আসছেন তারা।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুন মাসে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচির (এইচপিএনএসপি) মেয়াদ শেষ হয়। এর পর থেকে এ কর্মসূচির আওতায় সরকারের অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ রয়েছে। এরপর দুই বছরের জন্য একটি ডিপিপি চালু করে এক্সিট প্ল্যান চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার, যার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালে।

বক্তারা জানান, ‘সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হবে। সেই লক্ষ্যে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে আন্তরিকতার মাধ্যমে আমরা নিয়মিতভাবে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলাম।’

তারা বলেন, সাম্প্রতি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সভায় এএমসিসহ সকল অপারেশন প্ল্যানের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের ক্যারিড ওভার না করে তাদের আউট সোর্সিং হিসেবে সুপারিশ করা হয়, যা অত্যন্ত অপমানজনক। আমরা লিখিত, মৌখিক এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছি। ২০১৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। যেখানে সরকার এবং সরকারের স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, আমাদের চাকরি ক্যারিড ওভার করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা সমীচীন বলে আমরা মনে করি।

দীর্ঘ দিন বেতন বন্ধ থাকায় এএমসি প্রকল্পের ৩৫৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চরম হতাশায় জীবন যাপন করছেন বলে উল্লেখ করেন তারা। বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এবং আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা হিসেবে হোমিওপ্যাথিক, ইউনানি এবং আয়ুর্বেদক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পৃথিবীর অনেক দেশে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে হোমিওপ্যাথিক ইউনানি এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশে প্রায় তিন হাজার গ্রাজুয়েট হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, এক হাজার ৫০০ গ্রাজুয়েট ইউনানি চিকিৎসক এবং এক হাজার ৫০০ আয়ুর্বেদিক গ্রাজুয়েট চিকিৎসক রয়েছে। ইতিমধ্যে এএমসি প্রকল্পের ৪৫ জন মেডিকেল অফিসার, ৬৪ জন কম্পাউন্ডার এবং ৪৮৭ জন হার্বাল অ্যাসিস্ট্যান্টকে প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

‘আমরা মনে করি, দেশের জনগণের চাহিদা সম্পন্ন এই তিন চিকিৎসা পদ্ধতির নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫৪ জন মেডিকেল অফিসারের (হোমিওপ্যাথিক, ইউনানি এবং আয়ুর্বেদিক) প্রাপ্য ১৪ মাসের বকেয়া বেতন দ্রুত প্রদান, প্রকল্পের জনবল ক্যারিড ওভার এবং এই জনবলকে দ্রুত রাজস্ব খাতে স্থানান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগুরুত্বপূর্ণ এই অধিকার আদায়ে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি’—যোগ করেন তারা।

ইউনানি আয়ুর্বেক ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এবং এএমসির ফোকাল পার্সন ডা. মীর্জা লুতফর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডা. মুস্তাফিজুর রহমান সোহাগ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত হোমিওপ্যাথিক জোটের আহ্বায়ক ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা, জিএইচ ড্যাবের সদস্য সচিব ডা. জাকির হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মসিউজ্জামান পান্নু, আগড্যাবের সদস্য সচিব ডা. আমিনুল বারী কানন ডা. মো. মিজানুর রহমান, ডা. আব্দুল মতিন, ডা. মোহাম্মদ কামরুল হাসান তোহা ডা. সৈয়দ সুমন, ডা. রিতু খন্দকার, ডা. তৌফিক, ডা. ওয়াজেদ আলী, ডা. সায়েমুল প্রিন্স, আ. সোহেল, ডা. কেরামত আলী প্রমুখ।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক