বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন। আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে স্পেশালাইজড হাসপাতালে ইন্তিকাল করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আজ অসুস্থ অবস্থায় বাসা থেকে স্পেশালাইজড হাসপাতালে আনার পর সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বিস্তারিত আমরা পরে জানাতে পারবো।’
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স শেষ করার আগেই দর্শন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন বদরুদ্দীন উমর। তিনি ১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ এবং ১৯৫৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর হাত দিয়েই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারীও ছিলেন তিনি।
২০০৩ সালে গড়ে তোলা জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্য।
সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বদরুদ্দীন উমর ছিলেন একজন তাত্ত্বিক চিন্তাবিদ। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধির, ধর্মনিরপেক্ষতার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এক অনন্য প্রবক্তা।
বদরুদ্দীন উমর ষাটের দশকে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে গভীর চিন্তা ও বিশ্লেষণমূলক লেখা উপহার দিয়েছেন। তার লেখায় ধর্ম ও রাজনীতির দ্বন্দ্ব, উপনিবেশিক উত্তরাধিকার এবং সাংস্কৃতিক বিভাজন নিয়ে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছে।
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বদরুদ্দীন উমর। তার পিতা আবুল হাশিম ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ, যিনি মুসলিম লীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পারিবারিক পরিমণ্ডলেই তিনি রাজনীতি ও সমাজ বিশ্লেষণের বীজ বপন করেন, যা পরবর্তী সময়ে তার লেখনীতে প্রতিফলিত হয়।
ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় চেতনার উন্মেষ এবং বাঙালি সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলনে বদরুদ্দীন উমরের লেখা বইগুলো—বিশেষ করে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৬), ‘সংস্কৃতির সংকট’ (১৯৬৭) ও ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৯)—গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
গত ২২ জুলাই শ্বাসকষ্ট ও নিম্ন রক্তচাপজনিত সমস্যায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘ ১০ দিন চিকিৎসা শেষে তিনি বাসায় ফেরেন। তার বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। যদিও তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
এমইউ/