‘সুস্থতার মূলমন্ত্র’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও হেলথ২৪ এর পোর্টাল উদ্বোধন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সেন্টার অব ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিনের কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ড. মজিবুল হকের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বই ‘সুস্থতার মূলমন্ত্র’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এই সঙ্গে উদ্বোধন করা হয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক অনলাইন পোর্টাল হেলথ২৪ এর।
আজ রোববার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচন ও পোর্টালের উদ্বোধন করা হয়।
জীবন যাপন পদ্ধতির পরিবর্তনের মাধ্যমে সুস্থ থাকার বিষয়ে বইয়ে সন্বিবেশিত বিষয়বস্তুর নানা দিক তুলে ধরেন ড. মজিবুল হক। বলেন, সুস্থ থাকতে জীবন যাপন পদ্ধতির পরিবর্তন ও ব্যস্ততার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে পারলে ওষুধ ছাড়াই সস্থ থাকা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রকৃতি থেকে দূরে সরে গেছি। ঢাকা শহরে কোনো পার্ক নেই, মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকে?’
সুস্থ থাকতে নিয়মিত শরীর চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সুস্থ থাকতে যেটুকু খেলার জায়গা আছে, সেটুকু কাজে লাগাতে হবে। সকাল-বিকাল একটু পানির কাছে, বাগানে ও পার্কে যাওয়া উচিত। সবাই যাওয়া শুরু করলে রমনা আর চন্দ্রিমায় জায়গা হবে না, তখনই আরও জায়গা তৈরি হয়ে যাবে।
এ সময় স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক ড. মজিবুল হক। বলেন, যদি শর্করা (কার্বো-হাইড্রেড) বাদ এবং সঙ্গে ফ্যাটিফুড যুক্ত করা হয়, তাহলে এটা হবে আপনার জন্য ওষুধ। আলোচনায় চাল ও চিনিসহ সকল সাদা খাবার পরিহারের পরামর্শ দেন তিনি।
টেক্সসের সেন্টার অব ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিনের এই কনসালট্যান্ট বলেন, সব রোগের উৎপত্তি পাকস্থলি থেকে। আধুনিক লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে পারলে ওষুধ ছাড়াই সারাটা জীবন সুস্থতায় কাটিয়ে দেয়া যায়।
মানুষের মাঝে চর্বি ভীতি (ফ্যাট ফোবিয়া) রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য সব সময় কিন্তু ক্ষতিকর নয়। শরীরে ৭০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক আসে খামারে বেড়ে ওঠা প্রাণীর গোস্ত থেকে। এভাবে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক শরীরে গিয়ে মানুষের জন্য উপকারী গাট ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে শরীরে টক্সিসিটি (বিষক্রিয়া) বেড়ে যাচ্ছে। শরীরকে প্রাকৃতিক উপায়ে টক্সিসিটিমুক্ত করতে পারলেই নিরোগ থাকা সম্ভব।
তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আধুনিক জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় আমাদের ডায়েটে পরিবর্তন এসে গেছে, ইলেকট্রনিক ডিভাইস বেশি বেশি ব্যবহারের কারণে আমরা রেডিয়েশনের শিকার হচ্ছি। এ কারণে মানসিক চাপে (মেন্টাল স্ট্রেস) ভুগছি, ঘুম হচ্ছে না। আর এর ফল স্বরূপ আমরা নানা ধরনের রোগে ভুগছি। সাদা চিনি, সাদা আটা, বেশি ক্যালরি গ্রহণ এবং ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (এনএসএআইডি) আমাদের শারীরিক ক্ষতি ডেকে আনছে। তাছাড়া পোল্ট্রিজাত প্রাণী, দুধ ও ডিম খাওয়ার কারণে আমাদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
অধ্যাপক মজিবুল হক বলেন, পোল্ট্রি খাবারে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশে কোনো গবেষণা না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুই কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়ে থাকে লাইভস্টক ফার্মে।
হার্বার্ড ইউনিভার্সিটিতে ডক্টরাল ও পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রিপ্রাপ্ত অধ্যাপক মজিবুল হক আরো বলেন, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা বা ফাস্টিংকে হালকাভাবে দেখবেন না, এর পেছনে রয়েছে বিষ্ময়কর বিজ্ঞান। আমরা বলে থাকি ‘আমি বা ওমুক সময়মতো খাওয়া-দাওয়া করে না বা করি না’ বলে স্বাস্থ্য ভালো না, অসুস্থ হয়ে গিয়েছি। কিন্তু এই ধারণা ভুল, টাইমলি না খাওয়াতেই কল্যাণ, এটাই ওষুধ। আপনি যখন খাচ্ছেন না, তখন আপনার শরীরের অন্য কিছু খাচ্ছে, আপনার শরীরে থাকা টক্সিসিটি পরিষ্কার হয়ে যায় তখন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রক্রিয়াজাত খাবার (প্রসেসফুড) এবং কেমিকেল ইন্টারভেনশনের কারণে নানা রোগ হচ্ছে আমাদের। তিনি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, লাল গোসত (রেডমিট) থেকে প্রাপ্ত চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। লাল গোসতের মধ্যে ১১ ধরনের উপকারি অ্যামিনু এসিড এবং অনেক ধরনের খনিজ পদার্থ রয়েছে। এটা খাওয়া উপকারী কিন্তু বেশি খাওয়া অবশ্যই ক্ষতিকর।
ড. মজিবুল হক বলেন, আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফাস্টিং এবং ফ্যাট নিয়ে গবেষণা করার জন্য প্রচুর তহবিল আসছে। কারণ এই ফাস্টিং এবং ফ্যাটকে ভবিষ্যতের মেডিসিন বলা হচ্ছে। তিনি জানান, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলেও এর মধ্যে মাঝখানে লেবুর পানি, ইসবগুলের ভূষি ও সবজু চা খেলে ফাস্টিং ভাঙে না।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিল্পী, চিকিৎসক, স্কলারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমইউ/