২৫ অগাস্ট, ২০২৫ ০৩:৫৬ পিএম
ট্রাইব্যুনালে চিকিৎসকের জবানবন্দি

অভ্যুত্থানে এক চোখ অন্ধ হয়েছে ৪৯৩ জনের, ১১ জন হারিয়েছেন দুই চোখ

অভ্যুত্থানে এক চোখ অন্ধ হয়েছে ৪৯৩ জনের, ১১ জন হারিয়েছেন দুই চোখ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেন মিজানুর রহমান। ছবি: মেডিভয়েস।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীদের হামলায় ৪৯৩ জনের এক চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। আর দুই চোখের আলোই নিভে গেছে ১১ জনের। আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা।

বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি এ জবানবন্দি দেন।

ডা. নীলা চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ভিট্রিও-রেটিনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি হাসপাতালটিতে ভর্তি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন।

ট্রাইব্যুনালে ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা জানান, গত ১৯ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত এক হাজার দুজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮৬৪ জন হাসপাতালটিতে ভর্তি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৫০৪ জনের চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়, আর রেটিনা অপারেশন করা হয় ২৩৮ জনের চোখে।

তিনি জানান, ৪৯৩ জনের একচোখ ও ১১ জনের দুই চোখ চিরতরে অন্ধ হয়ে গেছে। এক চোখে গুরুতর দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন ৪৭ জন। আর ২৮ জন ভুগছেন দুই চোখের গুরুতর দৃষ্টি স্বল্পতায়। এ ছাড়া আরও ৪৭ জন দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন।

সাক্ষীর জবানবন্দিতে ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে আমাদের হাসপাতালে রোগী আসা শুরু করে। প্রথম দিন পাঁচজন রোগী পেয়েছিলাম, যারা মেটালিক পিলেট ও বুলেট বিদ্ধ ছিলো। ১৮ জুলাই ছিল রক্তস্নাত এক দিন। সেদিন আনুমানিক ১০০ রোগী ভর্তি হয়েছিলো। এর বাইরে আরও শতাধিক রোগীকে ওই দিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই দিন দুপুরে আমি ইমার্জেন্সির সামনে এসে এক ভয়াবহ চিত্র দেখি। ১৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী শতাধিক রোগীর একটা বড় অংশের কেউ এক চোখ, কেউ তাদের রক্তে ভাসা দু চোখ ধরে ছিলেন। তাদের চেহারা রক্তস্নাত ছিল।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘১৮ জুলাই ১০টি ওটি টেবিলে রাত ৯টা পর্যন্ত অপারেশন চলে। ১৯ জুলাই একই রকম চিত্র দেখতে পাই। অধিকাংশই মেটালিক পিলেট ও কেউ কেউ বুলেট দ্বারা আহত ছিলেন। আহতের ধরনে ছিলো কারো কর্নিয়া ছিদ্র, কারো চোখের সাদা অংশ ছিদ্র কিংবা কারো চোখ ফেটে যাওয়া অবস্থায়।’

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে ৪,৫ ও ৬ আগস্ট অনেক বেশি রোগী হাসপাতালে আসেন বলেও জানিয়েছেন ডা. নীলা। তিনি জানান, অধিকাংশ রোগী নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ওই সময় নিজের ডাক নাম ব্যাবহার করেছেন। রোগীরা তাদের ভুল মোবাইল নম্বর ও আইডি কার্ড নাম্বার দিত নিরাপত্তার কথা ভেবে বা কৌশল অবলম্বন করতে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রোববার পর্যন্ত এই মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : জুলাই গণঅভ্যুত্থান
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক