কর্মস্থলে অনুপস্থিতিতে রোগীর মৃত্যু: চিকিৎসককে বদলি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জরুরি বিভাগে দায়িত্ব রেখে শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন চিকিৎসক। তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) ডিগ্রিধারী একজন স্বাস্থ্য সহকারী। সে সময় তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক রোগী। গুরুতর অবস্থা দেখে রোগীর কাছেই যাননি ওই স্বাস্থ্য সহকারী। এতে চিকিৎসা না পেয়েই মারা যান তিনি।
গত ২৪ জুলাই রাতে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. কালিপদ সরকারকে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আজ রোববার (২৭ জুলাই) এক আদেশে তাঁকে বদলি করা হয়। অধিদপ্তর পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ বি এম আবু হানিফ স্বাক্ষরিত আদেশে বদলির কথা জানা গেছে। এদিকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে অধিদপ্তর।
ডা. কালিপদ সরকারকে বদলি করে দেওয়া আদেশে বলা হয়েছে, ‘কুড়িগ্রাম ২৫০ বেড জেলা হাসপাতালের নিয়মিত ইমাজেন্সী মেডিকেল অফিসার ডা. কালী প্রসাদ সরকারকে (কোড-১৪০১৮৪) সহকারী সার্জন পদে কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বদলি করা হলো।’
এই আদেশ প্রশাসনিক কারণে জারি করা হলো এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তী পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে তা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সভাপতি করা হয়েছে রংপুর বিভাগীয় পরিচালককে (স্বাস্থ্য)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন (সদস্য) ও রংপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন (সদস্য সচিব)। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্ত বলেছে, ‘উপর্যুক্ত বিষয়ের আলোকে জানানো যাচ্ছে যে, ‘গত ২৬ জুলাই ২০২৫খ্রি. তারিখে The Daily Campus এ প্রকাশিত ৫শ টাকায় ভাড়ায় ডিএমএফ: 'চিকিৎসক শ্বশুরবাড়িতে-জরুরি বিভাগেই রোগীর মৃত্যু' বিষয়ক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। উক্ত প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক কালিপদ সরকার দায়িত্বকালীন সময়ে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং তার পরিবর্তে একজন ডিএমএফ দায়িত্বে ছিলেন। উক্ত সময়ে জরুরি বিভাগে একজন রোগী মৃত্যুবরণ করেন।’
বিষয়টি তদন্ত পূর্বক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য কমিটি গঠন করা হলো বলেও চিঠিতে জানানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই রাতে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছিলেন কালিপদ সরকার। কিন্তু কর্মস্থল ছেড়ে তিনি ছিলেন শ্বশুরবাড়িতে। তার জায়গায় রাখা হয় রুবেল নামে একজন ডিএমএফ ডিগ্রিধারীকে।
শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত জামাল বাদশাহকে নিয়ে রাতে হাসপাতালে আসেন স্বজনরা। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের পাঁচগাছী ইউনিয়নের মিলপাড়ায়। জরুরি বিভাগের সামনে বারান্দায় তাকে এক ঘণ্টা ফেলে রাখা হয়। অবস্থা গুরুতর দেখে রুবেল রোগীর কাছে যাননি। এক পর্যায়ে স্বজনদের চাপের মুখে কাছে গেলেও ততক্ষণে মারা যান জামাল বাদশাহ।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা জরুরি বিভাগে হট্টগোল শুরু করলে বেরিয়ে আসে চিকিৎসক কালিপদের অনুপস্থিতির তথ্য। আর ততক্ষণে হাসপাতাল থেকে গা ঢাকা দেন ডিএমএফ রুবেল।
নিহত পরিবারের সদস্যদের দাবি, শব্দ শুনে জরুরি বিভাগে ছুটে আসেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)। এ সময় তিনি কালিপদকে ফোন দিলে তিনি বাহিরে আছেন বলে জানান।
এমইউ/