চতুর্থ দিনের মতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ইআরপিপি কর্মীদের অবস্থান
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চাকরি স্থায়ীকরণ এবং রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপারডনেস (ইআরপিপি) প্রকল্পের আউটসোর্সিং কর্মীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে গত শনিবার (১৪ জুন) শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচির চার দিন পেরিয়ে গেলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো আশ্বাস না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কোভিডকালে দায়িত্ব পালন করা এসব কর্মী।
আন্দোলনকারীরা জানান, করোনা মহামারীর ভয়াল সময়ে দেশজুড়ে ইআরপিপি প্রকল্পে এক হাজার চারজনের বিশাল জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারী এসব কর্মী বর্তমানে পাচঁ মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তাদের অভিযোগ, ইআরপিপি প্রকল্পের কর্মীদের বাদ দেওয়ার জন্য গত ২৫ মে চিঠি দেওয়া হয়। যদিও প্রকল্পের তহবিলে এখনো এক হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। বলছেন, অভিজ্ঞ জনবলকে বাদ দিয়ে খালি পদে নতুন নিয়োগ দিতে তৎপর হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আন্দোলনরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. শামীম শাহ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা ঈদের আগেও একটানা আন্দোলন করেছিলাম। তখন ডিজি (মহাপরিচালক) মহোদয় আমাদের সাথে বসেছিলেন। কিন্তু কোনো আশ্বাস দেননি। এখন কোনো যোগাযোগ করছেন না। আমাদের বিভিন্ন পদ আছে। সরকার বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই পদগুলো বিলুপ্ত করছে না। কিন্তু আমাদের বাদ দিয়ে অন্যদের নেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আবারও চারদিকে করোনাভাইরাস চোখ রাঙাচ্ছে। এমন সময়ে আমাদের হাতে গড়া আরটি পিসিআর ল্যাব কিংবা কোভিড ডেডিকেটেড আইসিইউ পরিচালনা করার জন্য আমাদের বাদ দিয়ে নতুন লোক নিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের পদেই নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইনস্টিটিউট ও জেলা সদর হাসপাতালের লোকবলের চাহিদা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’
জানা গেছে, ইআরপিপি প্রকল্পের আওতায় জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া/ক্রিটিক্যাল কেয়ার) ১৬ জন, মেডিকেল অফিসার (আইসিইউ) ৮০, ল্যাব কনসালট্যান্ট ৩০, সিনিয়র স্টাফ নার্স ১৫০, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ১২৬, ডাটা অপারেটর ১৯০, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট ৫১, ওয়ার্ড বয় ১০৪, আয়া ১০৩ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ১৫১ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৫৯ জন রাজধানীতে, ১৫৩ জন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে এবং ৫৯২ জন জেলা শহরে কোভিড ও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় কর্মরত ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ধাপে ধাপে ইআরপিপি প্রকল্পে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে তাদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হয়। যদিও প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত, তবে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তির মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। পরবর্তীতে এ বছরের ৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির ১৩তম সভায় ইআরপিপি প্রকল্পের মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে জুন পর্যন্ত বর্ধিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ভিত্তিতে কর্মীদের মৌখিকভাবে দায়িত্বে বহাল থাকতে বলা হয়। তবে কর্মীদের অভিযোগ, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত নিয়মিত কাজ করলেও কোনো বেতন পাননি।
তারা বলছেন, গত ২৫ মে হঠাৎ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা শাখা একটি চিঠি দিয়ে তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। এতে তারা হতবাক হন। একইসঙ্গে, তারা আশঙ্কা করছেন—একটি প্রভাবশালী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে এই দক্ষ জনবলকে বাদ দিয়ে নতুন অদক্ষ লোক নিয়োগ দিতে চাইছে, যার মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা চলছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জনবল জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিল। কিন্তু ইআরপিপির কর্মীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তারা নির্ধারিত সময়ে কাজ করেছেন এবং হাজিরাশিট যথাযথভাবে পাঠানো হয়েছে। এই মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদও জানিয়েছেন তারা।
এনএআর/