ডা. কামারুজ্জামান নাবিল
শিক্ষানবিশ চিকিৎসক, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা;
এমবিবিএস, ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইরান
০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ১২:৫৪ পিএম
রামেক আইসিইউতে ডা. মোস্তফা কামাল স্যারের সঙ্গে একদিন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: কোভিডের সময় দেশের প্রতিদিনকার তথ্য পেতে বিভিন্ন হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা বরেণ্য ব্যক্তিদের সাথে ফেসবুকে যুক্ত হওয়া। তাদের মাঝে একজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) প্রধান শ্রদ্ধেয় ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।
ডা. উমাইর চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেলাম রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ডিপার্টেমেন্টে স্যারের শরণাপন্ন হতে। দীর্ঘদিন থেকেই ইচ্ছা ছিল স্যারের সাথে দেখা করার। সেই ইচ্ছা এবার পূরণ হলো।
মোস্তফা কামাল স্যার ফেসবুকে নিয়মিত তাঁর ডিপার্টমেন্টের কার্যক্রমগুলো শেয়ার করতেন। যে কারণে তাঁর আইসিইউ ডিপার্টমেন্টের বাস্তব চিত্র নিজ চোখে দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। আইসিইউ ডিপার্টমেন্টে প্রবেশ করতেই দেখতে পেলাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, যা হাসপাতালের অন্য ডিপার্টমেন্টগুলো থেকে আলাদা।
চা খেতে খেতে গল্প শুরু হলো, ২০১১ সাল থেকে নিজ উদ্যোগে রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ডিপার্টমেন্টকে কীভাবে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন, সেটি আমাদের বলছিলেন। বলছিলেন, কোভিডের সেই ভয়াল সময়ের কথাগুলো। সঙ্গে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর প্রতিদিনকার তথ্য কেমন ছিল তাও জানাচ্ছিলেন।
কথার মাঝেই গর্ববোধ করার মতো একটা বিষয় বললেন স্যার। আইসিইউর কিছু ব্যবস্থাপনা পরিববর্তনের বিষয়ে বলতে লাগলেন। বলছিলেন, রোগীর নিরাপত্তায় আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আত্মীয়-স্বজন রোগীর সাথে দেখা করতে চাইলে তাঁর রুম থেকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রিয়জনকে দেখতে পাবেন। এর ফলে রোগীর সাথে খুব কাছাকাছি থেকে যোগাযেগ কম হওয়ায় ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে। পাশের কক্ষে রোগীর আত্মীয়দের কাউন্সেলিংয়ের জন্য রয়েছে আলাদা রুম। সেটিও সিসি ক্যামেরার আওতায় এবং অডিও রেকর্ডেড, যাতে কাউন্সেলিংয়ের বিষয়ে পরবর্তীতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে।
এ ছাড়া শুধুমাত্র আইসিইউ রোগীদের বিভিন্ন টেস্টের রিপোর্ট দ্রুত পেতে তৈরি করা হয়েছে আলাদা ল্যাব। এমন আলাদা ল্যাব বাংলাদেশের সরকারি কোন হাসপাতালে আছে বলে জানা নেই। কিছু ব্যবস্থাপনা দেখে ইরানের আইসিউগুলোর কথা মনে পড়ছিল। সেখানে রোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা রুম, বই কর্নার, মাতৃদুগ্ধপান রুম, মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট এবং ফিল্টার পানির ব্যবস্থা। আইসিইউর জন্য আলাদা লিফট ব্যবস্থা, খাবার সংরক্ষণ ও ওভেন/ব্লেন্ডার—এসবই রামেক আইসিইউতে সংযোজনের কাজ চলমান রয়েছে।
বর্তমানে এডাল্ট, পেডিয়াট্রিক ও জেরিয়াট্রিক (শারীরবৃত্তীয় কার্যকারিতা হ্রাস চিহ্নিতকরণ একটি ব্যবস্থা) আইসিইউতে সর্বমোট ৪০ বেড আছে। আগামীতে গাইনি ও ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেবা (ওসেক) যুক্ত হবে তখন প্রায় ৬০ শয্যায় উন্নীত হবে। আইসিইউতে বিভিন্ন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত হয়েছে।
আলাপচারিতায় স্যারের প্রচেষ্টায় ক্রমাগত আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথাও জানা গেল।
ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্যার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইমার্জেন্সি ক্রুশিয়াল ডিসিশন মেকিং সোসাইটিতে যুক্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্ভবত ১৩০ জনের মাঝে প্রথম কোনো বাংলাদেশি।
উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুবাদে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা এখানে যুক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দেশের বাইরে উচ্চ বেতনে চাকরি সুবিধা পেয়েও দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে থেকে যাওয়া এমন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষটির জন্য অনেক দোয়া ও ভালোবাসা।
বিদায়ের সময় স্যার আমাদের উপহার দিলেন নিজের থিসিস বই, যেটি প্রকাশ করেছে ল্যাম্বার্ট একাডেমিক পাবলিকেশন।
এসএইচবি/এমইউ