সিআইপিআরবির জনস্বাস্থ্য গবেষণা ফলপ্রসূ হচ্ছে: অধ্যাপক সায়েবা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) অনেক অবহেলিত জনস্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে গবেষণা করে ফলপ্রসূ সমাধান বের করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার। বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে তারা ফিস্টুলা ও প্রসব পরবর্তী মৃত্যু কমাতে ভূমিকা রাখছে।
বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, ২০০৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর থেকে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে ভূমিকা পালন করছে সিআইপিআরবি। ইনজুরি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা কার্যক্রম শুরু করলেও গত দুই দশকে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগসহ জনস্বাস্থ্যের নানা বিষয়ে অবদান রেখেছে। জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রতিষ্ঠানটির ২১৯টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।
সভায় আরও জানানো হয়, একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে ১০টি স্বাস্থ্য বিষয়ক পলিসি, গাইডলাইন ও স্ট্যাটেজি তৈরিতে অবদান রেখেছে। এ ছাড়া পানিতে ডোবা প্রতিরোধে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের দুইটি আলাদা রেজ্যুলেশনে সিআইপিআরবি’র গবেষকদের তথ্য উপাত্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রধান জাতীয় অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান বলেন, গবেষক, মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকসহ ছয় হাজারের বেশি নিবেদিতপ্রাণ পেশাদার কর্মীর সম্মিলিত প্রয়াসে সিআইপিআরবি জাতীয় স্বাস্থ্য কৌশলে সক্রিয় অবদান রাখছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়িত ও প্রশিক্ষিত করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়াও পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ও কল্যাণে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
সবার সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে গবেষণালব্ধ ফলাফলগুলো জীবনাচরণের কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ চিফ অব হেলথ ডা. ভিভাভেন্দ্রা রঘুভাংশী ড. ভিভাভেন্দ্রা রঘুভাংশী বলেন, সিআইপিআরবির বিভিন্ন গবেষণায় ইউএনএফপিএ গর্বিত সহযোগী। প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্যসহ অনেক সামাজিক ট্যাবু নিয়ে সমাজের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে কাজ করেছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গত ২০ বছরে লাখো মানুষের জীবন বাঁচানোসহ মানসম্মত জীবন নিশ্চিত করা গেছে।
ডব্লিউএইচওর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নাওয়াল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ‘ন্যাশনাল হেলথ রিসার্চ স্ট্র্যাটেজি’ তৈরি করে মানুষের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের মোট বরাদ্দের কমপক্ষে দুই শতাংশ স্বাস্থ্য গবেষণার কাজে ব্যয় করতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন জনজীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। যার মধ্যে স্বাস্থ্য খাত উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্যবিষয়ক সমস্যাগুলো সমাধানে সামগ্রিক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণার মাধ্যমে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সিআইপিআরবি’র ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল হক। বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল ফয়েজ, সিআইপিআরবি’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. একেএম ফজলুর রহমান ও উপ-নির্বাহী পরিচালক ডা. আমিনুর রহমান, আইসিডিডিআরবি’র প্রজেক্ট কো অর্ডিনেটর মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক মো. জিয়াউল ইসলাম, কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ অ্যাসিসটেন্স ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. এএম জাকির হোসেন, হেলথ সিস্টেম রিসার্চ ডিভিশনের পরিচালক ডা. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।
এসআই/এমইউ