২৭ জানুয়ারী, ২০২৫ ০৩:২৯ পিএম

শেবাচিম ডেন্টাল ইউনিটে ৭০ পদের মধ্যে খালি ৬১, নেই পর্যাপ্ত ক্লাসরুম

শেবাচিম ডেন্টাল ইউনিটে ৭০ পদের মধ্যে খালি ৬১, নেই পর্যাপ্ত ক্লাসরুম
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট। ছবি: নুর ইসলাম।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরেও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারেনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) ডেন্টাল ইউনিট। সমস্যা আর সংকটে জর্জরিত প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষক-চিকিৎসকের ৭০টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র নয়জন। নেই পড়াশোনারও পর্যাপ্ত জায়গা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেবাচিম ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান সমস্যা জায়গার সংকট। এ ইউনিটের জন্য কোনো একাডেমিক ভবন নেই কলেজটিতে। শেবাচিম হাসপাতালের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে চলে একাডেমিক কার্যক্রম। কক্ষটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী বসতে পারেন।

তবে এই কক্ষেই পাঁচটি বর্ষের ক্লাস নেওয়া হয়, যেখানে সর্বমোট দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। তবে এমবিবিএস-বিডিএসের সম্মিলিত ক্লাসগুলো নেওয়া হয় মেডিকেলের একাডেমিক ভবনে।

ক্লাসরুমের পাশের কক্ষগুলোতে হয় চিকিৎসা কার্যক্রম। কিন্তু স্থান সংকুলানের অভাবে অনেক সময় করিডোরেই চলে চিকিৎসা সম্পাদন।

এ ছাড়া ইউনিটটিতে শিক্ষক-চিকিৎসকদের ৭০টি পদের বিপরীতে মাত্র নয়জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। খালি রয়েছে বাকি ৬১টি পদ। মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ না দেওয়ায় ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেবাচিম ডেন্টাল ইউনিটে ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি, অর্থোডন্টিক্স, কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি, প্রস্থডনটিক্স, চিলড্রেন ডেন্টিস্ট্রি এবং জেনারেল ডেন্টিস্ট্রি—এই ছয়টি বিভাগ রয়েছে। কিন্তু কেবল শেষ বর্ষের ক্ষেত্রেই বিভাগভিত্তিক শিক্ষক রয়েছেন। অন্যান্য বর্ষে বিভাগভিত্তিক শিক্ষক নেই। এক বিষয়ের পড়াশোনা চলে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে।

এ ছাড়া ডেন্টাল ইউনিট হাসপাতালে থাকা অপারেটিভ চেয়ারগুলোর মধ্যে মাত্র সাতটি সচল রয়েছে। নেই প্রয়োজনীয় উপকরণ বা ল্যাবরেটরি সুবিধা। এমনকি ডেন্টাল ইউনিটের জন্য নির্ধারিত কোনো অপরাশেন থিয়েটারও নেই শেবাচিম হাসপাতালে। এ অবস্থায় ইউনিটের ৪৩ জন ইন্টার্ন চিকিৎকসহ শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন যথাযথ প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস থেকে।

এদিকে ডেন্টাল ইউনিট ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসায় বিলম্বের কৈফিয়ত দিয়ে একটি পোস্টার টানানো হয়েছে দেয়ালে। সেখানে বিলম্বের পিছনে দুটি কারণ লেখা হয়েছে। এর একটি—দাঁতের চিকিৎসা সময় সাপেক্ষ, অপরটি—চিকিৎসকের পদ শূন্য রাখা।

পোস্টারে বলা হয়েছে, ‘কর্তব্যরত চিকিৎসক এই সমস্যার জন্য দায়ী নন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে চিকিৎসক পোস্টিং না দেওয়াতে এই সমস্যা। আপনার অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জানান। হাসপাতাল অফিস থেকে প্রতি মাসেই জানানো হয়, এবার আপনি জানান।’

জানতে চাইলে শেবাচিম ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আগে থেকেই আমাদের এসব সংকট রয়েছে। যথাযথভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি আমরা। সবাই এটিকে গুরুত্ব সহকারেই নিয়েছেন। আশ্বাস দিয়েছেন সমাধানের চেষ্টা করবেন।’

এনআই/এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : শেবাচিম
জুলাই উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা 

হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত