২৩ জানুয়ারী, ২০২৫ ১০:০৯ এএম

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের দুর্বলতা তুলে ধরতে কমিটি গঠনের নির্দেশ স্বাস্থ্য সচিবের

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের দুর্বলতা তুলে ধরতে কমিটি গঠনের নির্দেশ স্বাস্থ্য সচিবের
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের দুর্বলতা তুলে ধরতে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। এ লক্ষ্যে তিন থেকে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভায় তা পেশ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়রের (ডব়্প) তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা সভায় এ নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য সচিব।

ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ করতে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে উল্লেখ করে সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা জনস্বাস্থ্যের দিকটিকে প্রাধান্য দিয়ে সাচিবিক সহায়তার দায়িত্ব জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলকে দিচ্ছি। এই সেলের কাজ হচ্ছে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের দুর্বলতা তুলে ধরা।’

এই দুর্বলতাগুলো লিখিতভাবে তুলে ধরে উপস্থাপন করতে তিন থেকে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে আগামী ১০ কার্যদিবস পর ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে পেশ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাসের জন্য প্রজ্ঞাপন জারির তাগিদ দেন আলোচকরা। এ সময় তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (ডব্লিউএইচও-এফসিটিসি) সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রণীত খসড়ার সংশোধনীতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

খসড়ার সংশোধনী প্রস্তাবগুলো হচ্ছে অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য পাবলিক প্লেস  ও গণপরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা, প্রচার বন্ধ করার জন্য বিক্রয়কেন্দ্রে তামাক পণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা, তামাক পণ্যের সকল প্রকার খুচরা ও খোলা বিক্রয় বন্ধ করা এবং সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা।

সভায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাশ করুক অন্তর্বর্তী সরকার। দুর্ভাগ্যবশত আইনের খসড়া পরিমার্জনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের কমিটির কার্যপরিধিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ট্যাক্সের বিষয়টিকে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কৃষির অর্থকরী ফসলের তালিকায় তামাক রয়েছে। কৃষি পরিসংখ্যানে যদিও এটিকে পরিষ্কারভাবে নেশাজাতীয় ফসলের আওতায় রাখা হয়েছে, কিন্তু এর অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে একে অর্থকরী ফসল বলা হচ্ছে। এই তালিকা থেকে তামাককে অপসারণ না করা হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী পাসের গুরুত্ব কমে যায় এবং অকার্যকর হয়ে পড়ে। অপসারণটি এই সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অন্যতম কৃতিত্ব হতে পারে।’

সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি, ডরপের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান, সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) এবং ডরপের উপদেষ্টা মো. আজহার আলী তালুকদার ও মো. আব্দুস সালাম মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রথম দিনেই ই-সিগারেট বা ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম সংশ্লিষ্ট সকল পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে গেজেট প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীর চূড়ান্ত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সংশোধনীটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে অধ্যাদেশ আকারে পাসের জন্য সরকারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া পরিমার্জনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যদের মতামত ও পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পরিমার্জিত খসড়াটি পুনরায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করবে।

এসআই/এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক