ডা. মো. আরমান হোসেন রনি
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
০২ জানুয়ারী, ২০২৫ ০২:৪৩ পিএম
চোখের মাংস বৃদ্ধি ও চিকিৎসা
টেরিজিয়াম বলতে বুঝায় চোখে মাংস বৃদ্ধি। কনজাংটিভা থেকে কর্ণিয়া পর্যন্ত ত্রিভুজাকৃতির পর্দার মত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত আবরণকে টেরিজিয়াম বলে। একে চোখের মনির আগাছাও বলে। এটি দু’চোখে অথবা এক চোখে হতে পারে৷
এটি চোখের কোণে আরম্ভ হয়ে কর্নিয়ার উপর পর্যন্ত চলে যায়৷টেরিজিয়াম কর্ণিয়ার কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়। আমাদের দেশের সচরাচর এরকম রোগী অনেক দেখা যায় যা শুধু ওষুধ দিয়ে এর বৃদ্ধি বন্ধ করা যায় না।
লক্ষণ: চোখে ব্যথা,চোখে লালভাব,চোখে চুলকানি, চোখে কোন কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করা,ঘোলাটে দৃষ্টি, চোখ থেকে পানি পড়া ইত্যাদি।
কারণ: বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, দুবাই যেখানে তাপমাত্রা অতিরিক্ত থাকে। যাদের উষ্ণ আবহাওয়া, রোদ অথবা অনেক বাতাস হয় এমন পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ থাকতে হয়, তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। এ ছাড়াও সব সময় পরাগরেণু, ধূলিবালি, ধূমপান অথবা ঝড়ো হাওয়ার সংস্পর্শে থাকলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চিকিৎসা: প্রাথমিক অবস্থায় কিছু ওষুধ ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয়। অনেকেই ওষুধের মাধ্যমে ভালো হয়ে যায়। আবার এট্রোপিক বা ডিজেনারেটেড টেরিজিয়াম এবং সিউডোটেরিজিয়াম এর ক্ষেত্রে অবজারবেশন ছাড়া তেমন কোন চিকিৎসা লাগেনা। তবে প্রগ্রেসিব টেরিজিয়াম এর একমাত্র চিকিৎসা হল অপারেশন। ছোট একটি অপারেশনের মাধ্যমে বর্ধিত মাংশ ফেলে দেয়া হয়। এ অপারেশন দুভাবে করা যায়।
১. টেরিজিয়াম এক্সিশন: অপারেশন করে বর্ধিত অংশ কেটে ফেলে দেয়া হয়। তবে এতে আবার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
২. টেরিজিয়াম গ্রাফটিং: এতে আবার হওয়ার ঝুঁকি খুবই কম থাকে।
তাই চোখে মাংস বৃদ্ধি পেলে অবশ্যই চক্ষু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। চিকিৎসা নিতে দেরি করলে অনেক সময় সার্জারি করার পরেও ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না।
এসএইচ
-
২৪ মে, ২০২৫
-
০৩ মে, ২০২৫
-
১৯ এপ্রিল, ২০২৫
-
১২ মার্চ, ২০২৫
-
০৮ মার্চ, ২০২৫
-
০২ জানুয়ারী, ২০২৫
-
০৪ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
০১ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
-
৩০ অগাস্ট, ২০২৪