মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর চিকিৎসক হত্যার ১৫ দিন পর তিনজন গ্রেপ্তার
মেডিভয়েস রিপোর্ট: মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর চিকিৎসক খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার (৩০ নভেম্বর) তাদের আদালতে প্রেরণ করার কথা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. নাইম খান (২২), মো. জাহিদুর রহমান রিফাত (২০) ও মো. আবু তাহের শিকদার শাওন (২২)। তারা তিনজনেই একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। এর মধ্যে নাইম ও রিফাত নিহত ডা. কে এম আব্দুর রশিদের বাসার ভাড়াটিয়া ছিলেন।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এসব কথা জানিয়েছেন।
এর আগে ১৫ নভেম্বর রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাড়িতে ছুরিকাঘাতে খুন হন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত বৃটিশ নাগরিক ডা. কে এম আব্দুর রশিদ। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই রেজাউল করিম হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা ঘটনা ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের পর আমরা প্রাথমিকভাবে সিসি ক্যামেরা পর্যালোচনা করি। ক্যামেরায় ধরা পড়া তিনজনকেই আমরা আইডেন্টিফাই করি। এরপরে খুলনার ডুমুরিয়া এলাকায় গিয়ে নাইম ও রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোহাম্মদপুর থেকে আমরা শাওন নামে আরেকজনকে ধরি।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা ভাড়া থাকা অবস্থায় কিছু বাকি ছিল, মাঝে মাঝে ভাড়া দিতে পারত না। সেটির পাশাপাশি রাত ১০টার পর বাসায় প্রবেশ নিয়ে নিহত চিকিৎসকের স্ত্রী ডা. সুফিয়া বেগমের সাথে তাদের বাগবিতণ্ডা হতো। এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেস্টুরেন্টকর্মী হিসেবে না থেকে নিজেরা কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। তারা রাস্তার পাশে ফুডকোর্ট দেওয়ার চিন্তা থেকে চুরির উদ্যোগ নেয়। সে উদ্যোগের অর্থ জোগান দিতে চুরি করতে উদ্যত হয়। যেহেতু চিকিৎসক দম্পতির কেউ এখানে নেই, তাদের থেকে চুরি করা সহজ হবে ভেবে তারা পরিকল্পনা করে।’
হত্যার দিনের বিবরণ দিতে গিয়ে মাসুদ আলম বলেন, ‘ওইদিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তারা তিনজন যায় চিকিৎসকের বাসায়। আড়াইটার দিকে যখন তারা ভিতরে প্রবেশ করে, তখন ডা. কে এম আব্দুর রশিদ তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য উঠেছিলেন। ফলে তারা প্রবেশ করার সাথে সাথে তিনি দেখে ফেলেন। চিকিৎসক যখন চিৎকার শুরু করেন, তখন তারা তাকে ধরে ফেলে। চিৎকার শুনে ডা. সুফিয়া বেগমও দৌড়িয়ে আসেন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে নাইম ছুরি দিয়ে ওই চিকিৎসকের শরীরে কয়েক জায়গায় আঘাত করে। গুরুতর আহত ডা. আব্দুর রশিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ সময়ে ওই মহিলা চিৎকার-চেঁচামেচি করলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটিও সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। কিন্তু রাতের অন্ধকার হওয়ার কারণে চেহারা পরিষ্কার হচ্ছিল না। পরে সূত্র এবং ভাড়াটিয়াদের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছি। তিনজনই এর সাথে সম্পৃক্ততার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। আজকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।’
হাজারীবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত চিকিৎসক ডা. কে এম আব্দুর রশিদ বছরের অধিকাংশ সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতেন। মাঝেমধ্যে তিনি বাংলাদেশে আসতেন।
এনএআর/
-
১৯ মে, ২০২৬
-
০৪ মে, ২০২৬
-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬
-
২০ এপ্রিল, ২০২৬
-
০৮ এপ্রিল, ২০২৬
-
২৬ মার্চ, ২০২৬
-
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-
২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
-
১৭ জানুয়ারী, ২০২৬